জল্পনার অবসান। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ। মঙ্গলবারই মনোনয়ন জমা দেওয়ার কথা তাঁর। প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর হাসিরানিকে পাশে নিয়ে হলদিয়ায় সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় নিয়ে কার্যত আত্মবিশ্বাসী বার্তা দেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি ভোট করাতে জানি। এমন মার্জিনে বিজেপি জিতবে, কেউ ভাবতে পারেনি। এবারও এমন মার্জিনে জিতব, কেউ ভাবতে পারছেন না।” নন্দীগ্রামের নির্বাচনী সমীকরণে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। বিজেপি প্রার্থী ঘোষণা না করায় সেই জল্পনা আরও জোরদার হয়। শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, শুভেন্দুর গড়ে তাঁর প্রয়াত আপ্তসহায়কের মায়ের উপরই আস্থা রাখছে গেরুয়া শিবির।

সভামঞ্চ থেকেই নন্দীগ্রাম নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন শুভেন্দু। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “ওর পাড়ায় গিয়ে ওকে হারিয়ে এসেছি।” এরপর নন্দীগ্রামের মানুষের জন্য নিজের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি, “নন্দীগ্রামের দায়িত্ব আমার। এখানকার সকলের মাথায় ছাদ, হাতে কাজ, পেটে ভাত—আমার অঙ্গীকার। আমি পূরণ করবই।” সভা শেষ হওয়ার পর হাসিরানি রথকে সঙ্গে নিয়েই পায়ে হেঁটে মনোনয়ন পেশের জন্য এগিয়ে যান শুভেন্দু।

উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছাড়তে হওয়ায় নিজের গড় নন্দীগ্রামকেই বেছে নেন তিনি। ফলে আসনটি বিধায়কশূন্য হয়। একইভাবে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর ও নওদাতেও উপনির্বাচন হতে চলেছে। ওই দুই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত তথা আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম-সহ তিন কেন্দ্রে উপনির্বাচন। বিজেপি ছাড়া অন্য দলগুলি আগেই প্রার্থী ঘোষণা করেছিল। ফলে নজর ছিল গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী ঘোষণার দিকে। বিশেষ করে নন্দীগ্রামে হাসিরানি রথের নাম নিয়ে যে জল্পনা চলছিল, মঙ্গলবারের ঘোষণায় তাতেই সিলমোহর পড়ল।

Leave a comment