নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে হাসিরানি রথের মনোনয়ন ঘিরে মঙ্গলবার সরগরম হলদিয়া। প্রয়াত চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথ এদিন প্রায় ২০ হাজার কর্মী-সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন জমা দেন। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর মঞ্চ থেকেই প্রয়াত চন্দ্রনাথকে স্মরণ করে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি।

চন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু দাবি করেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁকে সহযোগিতা করাই তাঁর প্রয়াত আপ্তসহায়কের ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাঁর কথায়, “চন্দ্রের সবথেকে বড় অপরাধ ছিল একজন বিরোধী দলনেতাকে সহযোগিতা করতেন।” চন্দ্রনাথকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে বলেও এদিন অভিযোগ করেন তিনি।

শুধু চন্দ্রনাথকে স্মরণ করাই নয়, তাঁর মায়ের বিজেপির প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গেও নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে বার্তা দেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন চন্দ্রনাথ তাঁকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিলেন। সেই সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেই প্রয়াত চন্দ্রনাথের পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দেন তিনি।

এদিনের সভা থেকে নন্দীগ্রামের বিজেপি কর্মীদেরও একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, দলের যে সমস্ত নেতা-কর্মী জেলে গিয়েছেন কিংবা ‘মিথ্যে মামলায়’ জড়িয়েছেন, তাঁদের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব তিনি নেবেন। সেই সঙ্গে মিথ্যে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়েও পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন তিনি। নন্দীগ্রামের অবহেলিত ও অত্যাচারিত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়ানোর কথাও বলেন বিজেপি নেতা।

নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের ফল নিয়েও আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু। তাঁর দাবি, বিজেপি এবার এমন ব্যবধানে জয় পাবে, যা আগে কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। একইসঙ্গে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আক্রমণ করেন তিনি।

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশেও এদিন বার্তা দেন শুভেন্দু। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে তাঁদের জন্য ‘পরীক্ষা’ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান তিনি। তবে নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শুভেন্দুর দাবি, “বাকিটা আমরা জিতছি, জিতব।”

Leave a comment