দীর্ঘদিনের অবহেলার পর ফের পর্যটকদের জন্য নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে জলপাইগুড়ির মধুবনী ইকো পার্ক। ডুয়ার্সের এই পর্যটনকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে এক কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদ। পুজোর আগেই সংস্কারের কাজ শেষ করে পর্যটকদের জন্য কেন্দ্রটি খুলে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মধুবনী ইকো পার্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ। একদিকে মরাঘাটের জঙ্গল ও চা-বাগান, অন্যদিকে আংরাভাসা নদী। সবুজের মধ্যে দিয়ে বয়ে চলা নদী এবং চারপাশের বনাঞ্চল পর্যটকদের কাছে একসময় এই জায়গাটিকে জনপ্রিয় করে তুলেছিল। সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের লেখাতেও মধুবনীর উল্লেখ রয়েছে।
তবে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে পর্যটনকেন্দ্রটির পরিকাঠামো নষ্ট হতে থাকে বলে অভিযোগ। পর্যটকদের থাকার কটেজগুলি বেহাল হয়ে পড়ে। বিনোদন পার্কের বিভিন্ন ব্যবস্থাও সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত আলোর অভাবেও সন্ধ্যার পর পর্যটনকেন্দ্রের বিভিন্ন অংশ অন্ধকারে ডুবে থাকত। এর ফলে পর্যটকদের আনাগোনাও কমে যায়।
এবার মধুবনীকে ফের পর্যটনবান্ধব করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ এক কোটি টাকা দিয়ে মোট আটটি কটেজ সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি বিনোদন পার্কের উন্নয়ন এবং আলোকসজ্জার কাজও হবে। পর্যটকদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে আলো বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
মধুবনীকে ঘিরে আশপাশের পর্যটন সম্ভাবনাও যথেষ্ট। মধুবনী জঙ্গল, মরাঘাট রেঞ্জের খট্টিবাড়ি জঙ্গল এবং তোতাপাড়া বনবস্তি রয়েছে কাছেই। তোতাপাড়ায় বনদুর্গা পুজোর পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও আদিবাসী নৃত্য দেখার সুযোগ রয়েছে। জঙ্গল এলাকায় বন্যপ্রাণী দেখার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শীতের মরশুমে আকাশ পরিষ্কার থাকলে মধুবনী থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার বরফঢাকা পাহাড় দেখা যেতে পারে। ফলে নতুন করে সাজানো হলে জঙ্গল, নদী, চা-বাগান, পাহাড় এবং স্থানীয় সংস্কৃতিকে একসঙ্গে উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে।
পুজোর আগেই সংস্কারকাজ শেষ করে পর্যটনকেন্দ্রটি চালু করার প্রস্তুতি চলছে। নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে মধুবনী ফের পর্যটকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা স্থানীয়দের।

Leave a comment