দিঘা স্টেশনে ঢোকার আগেই থমকে গেল তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস। বুধবার সকালে হাওড়া থেকে দিঘাগামী ট্রেনটি স্টেশন থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে দাঁড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যার কারণেই এই বিপত্তি বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। তাঁদের মধ্যে অনেকে ট্রেন থেকে নেমে হেঁটে কিংবা টোটোয় করে গন্তব্যের দিকে রওনা দেন।
বুধবার সকালে হাওড়া থেকে দিঘার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস। সকাল ১০টা নাগাদ দিঘা স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল ট্রেনটির। কিন্তু স্টেশনের এত কাছে এসেও গন্তব্যে পৌঁছতে পারেননি যাত্রীরা। দীর্ঘক্ষণ ট্রেন দাঁড়িয়ে থাকায় অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিল না অনেকের। সঙ্গে ব্যাগপত্র নিয়ে সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। পরিবার নিয়ে বেড়াতে যাওয়া অনেকেই শেষ পর্যন্ত বিকল্প পথে দিঘা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কেউ হেঁটে, আবার কেউ টোটোয় করে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে।
কেন ট্রেনটি দাঁড়িয়ে পড়ল, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যার কথাই উঠে আসছে। ট্রেন চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন যাত্রীরা।
এদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে আছড়ে পড়েছে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ বলে প্রাথমিক খবর। স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব বাংলাতেও পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। উপকূলবর্তী জেলা এবং পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে।
তবে ঘূর্ণিঝড়ের সঙ্গে তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসের এই বিপত্তির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুজো শেষ হতেই দিঘায় পর্যটকদের আনাগোনা বেড়েছে। সমুদ্রের টানে বহু মানুষ ছুটছেন সৈকতনগরীতে। কিন্তু দিঘায় পৌঁছনোর আগেই ট্রেন দাঁড়িয়ে যাওয়ায় তাঁদের যাত্রায় ছেদ পড়ে। নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে অনেককেই বিকল্প পরিবহণের ব্যবস্থা করতে হয়।

Leave a comment