পুজোর আর বেশি দেরি নেই। শহরের বড় পুজোগুলিতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিও চলছে জোরকদমে। উত্তর কলকাতার কলেজ স্কোয়্যার থেকে দক্ষিণের বেহালা ঠাকুরপুকুর এসবি পার্ক—দুই পুজোতেই এ বছর দর্শকদের জন্য থাকছে ভিন্ন স্বাদের ভাবনা।
কলেজ স্কোয়্যারে এ বছর মণ্ডপ তৈরির পরিকল্পনা ছিল বিলেতের ‘অ্যালবার্ট হল’-এর আদলে। পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্তও হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মণ্ডপের দায়িত্বে থাকা শিল্পী অসুস্থ হয়ে পড়ায় কাজ শুরুর আগেই বদলাতে হয় ভাবনা। শেষ পর্যন্ত ৭৯তম বর্ষে কলেজ স্কোয়্যারে দর্শকদের সামনে উঠে আসছে একটি পরিত্যক্ত পুরোনো বাড়ি। প্রতিমা অবশ্য থাকছে চিরাচরিত সাবেকি আদলেই।
কলেজ স্কোয়্যারের পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা বিকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, অতীতের ধারাবাহিকতা মেনেই এবারও সাবেকি পদ্ধতিতে পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। প্রতিমা নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী সনাতন রুদ্রপাল।
অ্যালবার্ট হলের পরিকল্পনা বাতিল হওয়ায় দর্শকদের প্রত্যাশা কিছুটা ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করা হলেও, তা নিয়ে আশ্বস্ত পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁদের দাবি, আলোর কারুকার্য এবারও দর্শকদের নজর কাড়বে। বিশেষ করে সুইমিং পুলের জলে আলোর প্রতিফলন তৈরি করবে আলাদা আবহ। মণ্ডপের ঝাড়লন্ঠনের সৌন্দর্যও আকর্ষণের অন্যতম বিষয় হতে চলেছে। আলোকসজ্জার দায়িত্বে থাকা চন্দননগরের শিল্পীদের কাজ নিয়েও যথেষ্ট আশাবাদী কমিটি।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কলকাতার বেহালা ঠাকুরপুকুর এসবি পার্কে এ বার মণ্ডপের বিষয় রানিগঞ্জ। ৫৬ বছরের পুরনো এই পুজোয় মণ্ডপে ঢুকলেই দর্শকদের সামনে ফুটে উঠবে কয়লাখনির গভীর জগত। খনি এলাকার মানুষের জীবনযাপন থেকে শুরু করে দুষ্কৃতীদের সক্রিয়তা—রানিগঞ্জের নানা বাস্তব ছবিই তুলে ধরা হবে মণ্ডপে।
প্রতিমা ও মণ্ডপ নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী রাজু সরকার। তাঁর ভাবনার উপরেই ভরসা রেখে শহরের বুকে আস্ত একটি কয়লাখনি তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছেন উদ্যোক্তারা।
কমিটির উদ্যোক্তা সঞ্জয় মজুমদারের কথায়, কয়লার উপর নির্ভর করেই সভ্যতার অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু সেই কয়লা যাঁরা মাটির গভীর থেকে তুলে আনেন, তাঁদের জীবনের অন্ধকার এখনও কাটেনি। মণ্ডপে তাই কয়লাখনি শ্রমিকদের জীবন, তাঁদের দৈনন্দিন কষ্ট এবং সংগ্রামের ছবিই তুলে ধরা হবে।
শুধু শ্রমিকদের জীবন নয়, কয়লাখনি এলাকার পরিবেশগত সমস্যাও মণ্ডপের ভাবনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় মাটি বসে যাওয়া কেন ঘটে, পরিত্যক্ত খনিতে বালি ভরাটের কাজে গাফিলতি কীভাবে বিপদ ডেকে আনতে পারে—সেই বিষয়গুলিও দর্শকদের সামনে তুলে ধরবেন এসবি পার্কের উদ্যোক্তারা।

Leave a comment