মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথমবার কোচবিহারে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। পুজো দেওয়ার পর কোচবিহারের সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে জেলার বিমানবন্দর নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেন তিনি। জানান, কোচবিহারকে ঘিরে একাধিক পরিকল্পনা রয়েছে এবং জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যেই সেই পরিকল্পনা তৈরি করেছে।

বর্তমানে উত্তরবঙ্গে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বাগডোগরা বিমানবন্দরই প্রধান ভরসা। অথচ কোচবিহারে বিমানবন্দরের জন্য জমি থাকা সত্ত্বেও সেখানে পরিষেবা পুরোপুরি চালু হয়নি। এই প্রসঙ্গেই শুভেন্দু বলেন, “কেন্দ্রীয় অসামরিক পরিবহণ মন্ত্রীর সঙ্গে কিছু আলোচনা করেছি। এতে কোচবিহার থাকছে।” তাঁর এই মন্তব্যে কোচবিহারে বিমানবন্দর নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে।

এরপর জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি ৯ মে শপথ নিয়েছি। আমায় ৯ মে ২০২৭ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ ১ বছর সময় দিতে হবে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের যে কাজ হচ্ছে দেখবেন তাতে অধিকাংশই আমরা কোচবিহার জেলার জন্য করেছি। এর বাইরেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কাজ আমরা এই জেলার জন্য করছি।”

কোচবিহারের পর্যটন সম্ভাবনা নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের তরাই-ডুয়ার্সের একশৃঙ্গ গণ্ডার ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তাই পর্যটকদের আরও বেশি করে কোচবিহারে টানার উদ্যোগ নিতে হবে। তাঁর মতে, একদিকে প্রকৃতি দেখতে পর্যটক আসবেন, অন্যদিকে ধর্মীয় স্থানগুলিও পর্যটকদের আকর্ষণ করবে।

এই পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে রেল ও বিমান যোগাযোগের পাশাপাশি বাস পরিষেবা এবং পর্যটকদের রাত্রিবাসের জন্য উন্নত গেস্ট হাউজ তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই পরিকাঠামো তৈরি করা গেলে কোচবিহার একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

Leave a comment