মূর্তি নদীর উপর তৈরি হল নতুন সেতু। প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ করে নির্মিত এই সেতুর উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেতুটি চালু হওয়ায় নাগরাকাটার সঙ্গে জলপাইগুড়ির যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে মঙ্গলবার জলপাইগুড়িতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই মূর্তি নদীর উপর নবনির্মিত সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সেতুর পাশাপাশি আরও দু’টি সেতু তৈরির কাজ চলছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত বছর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল কালীখোলা সেতু। সেই সেতুর পুনর্নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এ দিনের অনুষ্ঠানে উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের প্রসঙ্গও উঠে আসে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র চা শ্রমিকদের জন্য রাজ্য ৩৩০ কোটি টাকা অনুদান পেয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া চা-বাগানগুলি ফের চালু করার উদ্যোগের পাশাপাশি পুজোর মরশুমে শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়ার বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে কোচবিহারে মদনমোহন মন্দিরে যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে পুজো এবং আরতিতে অংশ নেন তিনি। মন্দির থেকে বেরিয়ে কোচবিহারের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগামী এক বছরের মধ্যে কোচবিহারবাসীর বিভিন্ন দাবি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সড়ক ও রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থাও গড়ে তোলার কথা জানান তিনি।
উত্তরবঙ্গ সফরের পরবর্তী পর্বে হাসিমারার সুভাষিণী চা-বাগানের মাঠে বিশ্ব গন্ডার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। জলদাপাড়ার পিলখানায় থাকা দুই হস্তিশাবকের নামকরণও করবেন তিনি। বনদপ্তরের ওই অনুষ্ঠানে বন্যপ্রাণীর দেহাংশ পুড়িয়ে নষ্ট করার কর্মসূচি-সহ একাধিক উদ্যোগে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বনদপ্তরের প্রদর্শনীও ঘুরে দেখবেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে হাসিমারা সেনা ছাউনি থেকে আকাশপথে কলকাতায় ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

Leave a comment