বিশ্ব গন্ডার দিবস উপলক্ষে হাসিমারায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়ে বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চোরাশিকারিদের হাত থেকে বন্যপ্রাণ, প্রকৃতি এবং রাজ্যের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের কথা জানান তিনি। পাশাপাশি এই কাজে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও চান মুখ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বন্যপ্রাণীদের খাদ্য ও চিকিৎসা পরিষেবার দিকেও নজর দেওয়ার আশ্বাস দেন শুভেন্দু। বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকার মানুষের সহযোগিতা ছাড়া বন্যপ্রাণ রক্ষা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি। বিশ্ব গন্ডার দিবসে হাসিমারায় দাঁড়িয়ে চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে তাঁর এই বার্তা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

এদিন উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জন্যও একাধিক ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্ধ চা-বাগানগুলি খোলার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস পাইয়ে দেওয়ার কথা জানান তিনি। চা-বাগানে বসবাসকারী শ্রমিকদের উদ্বৃত্ত জমির মালিকানা দেওয়ার কাজও করা হবে বলে জানান শুভেন্দু।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, চা-বাগান খোলার প্রতিশ্রুতি তিনি ভুলে যাননি। শ্রমিকদের স্বার্থে আরও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি টোটো পাড়ায় ১২০০টি বাড়ি তৈরির ঘোষণাও করেন।

উত্তরবঙ্গের পর্যটন ক্ষেত্র নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। তরাই-ডুয়ার্সকে এক বছরের মধ্যে বিশ্ব পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানান তিনি। পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এছাড়াও আগামী ২ অক্টোবর ফের উত্তরবঙ্গে আসার কথা জানান শুভেন্দু। বক্সায় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ছাড়ার কর্মসূচি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ফলে বিশ্ব গন্ডার দিবসের অনুষ্ঠান থেকে একদিকে চোরাশিকার রোধ ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের বার্তা, অন্যদিকে চা শ্রমিকদের বোনাস, বন্ধ বাগান খোলা, জমির মালিকানা এবং আবাসন নিয়ে একাধিক ঘোষণা সামনে এল।

Leave a comment