পাহাড়ে একটানা বৃষ্টির জেরে নতুন করে বিপর্যস্ত সিকিম। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে একাধিক এলাকায় ধস নামায় ব্যাহত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ। শিলিগুড়ি-সিকিম যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২০ মাইল এলাকায় বড়সড় ধস নেমেছে। পাহাড়ের উপর থেকে পাথর ও মাটি গড়িয়ে পড়ায় রাস্তার বিস্তীর্ণ অংশ কাদা ও ধ্বংসস্তূপে ঢেকে গিয়েছে।
একই পরিস্থিতি সিংতাম-রংপো রুটেও। রাস্তায় মাটি-পাথর জমে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই বিপজ্জনক যে সাধারণ যাত্রীর পাশাপাশি পর্যটকদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে সিকিম প্রশাসন। লাগাতার বৃষ্টির কারণে তিস্তার জলস্তরও বাড়ছে।
পশ্চিম সিকিমেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। প্রশাসন সূত্রে খবর, ভারী বৃষ্টির জেরে রিম্বি-ইউকসাম সড়কে নতুন করে ধস নেমেছে। ২০ মাইল বারদাং রোডেও জল ও কাদার কারণে যান চলাচল বন্ধ। পাহাড়ের ঢাল ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় বৃহস্পতিবার সকালে রিম্বি-ইউকসাম সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
শুধু তাই নয়, পাহাড় থেকে লাগাতার মাটি-পাথর নেমে আসায় রিম্বি হয়ে খেচুপেরি থেকে গিয়ালশিং যাওয়ার রাস্তাতেও যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। বৃষ্টির পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও থাকছে।
সিকিমের পাশাপাশি প্রতিবেশী নেপাল ও ভুটানেও আবহাওয়া পরিস্থিতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। শুক্রবার পর্যন্ত নেপালজুড়ে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির জন্য হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। গণ্ডকী ও লুম্বিনি প্রদেশে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একাধিক এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে। রাতের অপ্রয়োজনীয় যাত্রা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে নেপালের আবহাওয়া দফতর।
ভুটানেও শুরু হয়েছে ভারী বৃষ্টি। পরিস্থিতির জেরে হড়পা বান ও ভূমিধসের সতর্কতা জারি করেছে ভুটান ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি। বৃষ্টির জেরে তোর্সা, রায়ডাক ও সঙ্কোশ নদীর জলস্তর বাড়তে পারে। ফলে পুজোর মুখে ডুয়ার্সের বানারহাট, জয়গাঁ-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a comment