জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় শুক্রবার সকালে বেকারির ভিতর থেকে এক ম্যানেজারের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতের নাম হাফিজুর রহমান। তিনি প্যারিস বেকারিতে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হাফিজুরের বাড়ি হুগলির পুরশুড়া থানা এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূত্রে জলপাইগুড়িতে থাকতেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে অন্যান্য দিনের মতোই বেকারিতে ছিলেন হাফিজুর। কিন্তু শুক্রবার সকালে তাঁর রক্তাক্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এরপর পুলিশ গিয়ে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা লুটের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। পুলিশের অনুমান, কেউ বা কয়েকজন লুটের উদ্দেশ্যে বেকারিতে ঢুকে থাকতে পারে। সেই সময় হাফিজুর বাধা দেওয়ায় তাঁর উপর হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের আগে এই বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে চাইছে না পুলিশ।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত শত্রুতার সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে। হাফিজুরের সঙ্গে কারও কোনও বিরোধ ছিল কি না, তা জানতে তাঁর পরিচিতদের সঙ্গে কথা বলা হতে পারে। বেকারির ভিতর থেকে কোনও টাকা বা মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গিয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার কিনারা করতে বেকারি ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কারা ওই এলাকায় যাতায়াত করেছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে পুলিশ। ঘটনায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

Leave a comment