ঝালমুড়ি শুধু বাঙালির প্রিয় মুখরোচক স্ন্যাকস নয়, এখন তা পুজোর মণ্ডপেরও অন্যতম আকর্ষণ। ঝাড়গ্রামের গিধনি স্পোর্টিং ক্লাবের দুর্গাপুজোয় এ বার মণ্ডপসজ্জার মূল ভাবনাই ঝালমুড়ি। মণ্ডপজুড়ে উঠে আসবে এই জনপ্রিয় খাবারকে ঘিরে বাঙালির নস্টালজিয়া, পাশাপাশি ফুটে উঠবে ঝালমুড়ি বিক্রেতাদের জীবনযাত্রার নানা ছবি।
সম্প্রতি ভোটপ্রচারে ঝাড়গ্রাম সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি ও ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেই ঘটনার পর ঝালমুড়ি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়। যদিও গিধনি স্পোর্টিং ক্লাবের উদ্যোক্তারা স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের পুজোর থিমের সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। বরং বাঙালির চেনা খাবারটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা আবেগ এবং স্মৃতিকেই মণ্ডপে তুলে ধরতে চাইছেন তাঁরা।
এ বছর ৮২ বছরে পড়েছে গিধনি স্পোর্টিং ক্লাবের পুজো। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৫০০ জন সদস্য। প্রতি বছরই কোনও না কোনও সামাজিক বার্তা তুলে ধরা হয় মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে। এ বার সেই জায়গা নিয়েছে ঝালমুড়ি। ট্রেনে হকারদের ঝালমুড়ি বিক্রির পরিচিত দৃশ্যকে সামনে রেখেই তৈরি হচ্ছে গোটা মণ্ডপ।
মণ্ডপের সামনে থাকবে প্রায় ছ’ফুট উঁচু দু’টি বড় ঠোঙা। তার সঙ্গে থাকবে লঙ্কা ও লেবুর প্রতিকৃতিও। ঝালমুড়ি রাখার বিশাল পাত্র তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে প্রায় দু’হাজার টিন। শিল্পী সুমন দত্তের পরিকল্পনায় মণ্ডপের ভিতরেও থাকবে একাধিক চমক।
ট্রেন, মেলা, দোকান কিংবা স্টেশনের বাইরে ঝালমুড়ি বিক্রির দৃশ্য মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে। শুধু তাই নয়, মণ্ডপের ভিতরে ঝোলানো হবে প্রায় ১০ হাজার ঝালমুড়ির ঠোঙা। সব মিলিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রির চেনা জগতটাই যেন অন্য রূপে হাজির হতে চলেছে।
পরিবেশের কথাও মাথায় রেখেছেন উদ্যোক্তারা। মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে কাগজ। তাঁদের বক্তব্য, ঝালমুড়ি বিক্রির সঙ্গে নানা ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে। তাই এই থিমের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির বার্তাও তুলে ধরা সম্ভব।
দেবী আরাধনার পাশাপাশি সামাজিক কাজও থাকছে পুজোর কর্মসূচিতে। রক্তদান শিবির, স্বাস্থ্যপরীক্ষা এবং বস্ত্র বিতরণের আয়োজন করা হবে এ বারও।
ঝালমুড়িকে ঘিরে এমন অভিনব ভাবনার খবর শুনে খুশি ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রমকুমার সাউ ওরফে ‘বিহারীবাবু’। তাঁর আশা, এ বার পুজোয় ঝালমুড়ির চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়বে লক্ষ্মীলাভও।

Leave a comment