দুবাই থেকে তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল ফ্লাই দুবাইয়ের বিমানটি। খানিকক্ষণের মধ্যেই বিমান থেকে হাইজ্যাকের সংকেত পাঠানো হয়। এরপরই বিমানটি যাত্রাপথ বদল করে সৌদির অভিমুখে উড়তে থাকে। ৯/১১-এর মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রায় নিশ্চিত। ১৮০ জন যাত্রী বোঝাই বিমান নিয়ে জরুরি অবতরণ করা হয় সৌদিতে। বুধবার গোটা বিশ্বে শোরগোল ফেলে দিয়েছে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স বিমান ‘হাইজ্যাক’।
এই ঘটনায় নিজের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার। সতীর্থের ছুরিকাঘাতে বিদ্ধ হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি লড়ে গেলেন অগুণতি প্রাণ বাঁচানোর জন্য। বিমানে থাকা ১৮০জন যাত্রী তো বটেই, আরও শয়ে শয়ে মানুষের প্রাণ যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ৯/১১-এর মতো ভয়ংকর ঘটনার আশঙ্কাকে প্রতিহত করে নিজের সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন এই ভারতীয় পাইলট। বিমানটি সুস্থভাবে অবতরণের পর তাঁকে ‘হিরো’র তকমা দিচ্ছেন যাত্রীরা।
জানা গিয়েছে, কো-পাইলটের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝে সঙ্গে সঙ্গে রুখে দাঁড়ান স্মিত মচ্ছা। আর এরপরেই বাঁধে বচসা। পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যেতেই স্মিতকে ধারালো ছুরি দিয়ে একাধিকবার কোপ দেন অভিযুক্ত কো-পাইলট। অন্যান্য পাইলট এবং বিমানকর্মীদের প্রচেষ্টায় সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। অবশেষে সৌদি আরবে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয় বিমানটিকে। তবে ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার জোরেই যাত্রীদের প্রাণ রক্ষা হয়। সে কথা যাত্রীরাও বুঝেছেন। তাঁদের কাছে একমাত্র ‘হিরো’ স্মিত মচ্ছা।
উল্লেখ্য, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, স্মিতের কো পাইলট নিজের ইচ্ছামতো বিমান ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন। হাইজ্যাকের ঘটনা ঘটেনি। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতায়াহু দাবি করেছেন, যাত্রীদের অধিকাংশই ছিলেন ইজরায়েলি। পাইলট বিমানটিকে ‘ক্র্যাশ’ করার চেষ্টা করেছিলেন। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ-সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বলেন, “এই ঘটনা একটি সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টা।”

Leave a comment