দুর্গাপুজোর ছুটিতে উত্তরবঙ্গের জঙ্গলে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? জলদাপাড়ায় পর্যটকদের জন্য সুখবর। এবার থেকে এক মাস আগে থেকেই অনলাইনে জিপসি ও হাতি সাফারির টিকিট বুক করা যাবে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করেছে বন দফতর। অন্যদিকে, বক্সা টাইগার রিজার্ভে বনবস্তিবাসীদের আন্দোলনের জেরে বন্ধ রয়েছে কার সাফারি। পুজোর আগে উত্তরবঙ্গের দুই জনপ্রিয় জঙ্গল পর্যটনকেন্দ্রে তাই দেখা যাচ্ছে ভিন্ন ছবি।

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে প্রতিদিন জিপসি সাফারির ৯১২টি এবং হাতি সাফারির ৪৮টি আসনের টিকিট অনলাইনে বুক করতে পারবেন পর্যটকরা। এক মাস আগে থেকে টিকিট কাটার সুযোগ থাকায় বেড়ানোর পরিকল্পনা করতে সুবিধা হবে তাঁদের। দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকরাও আগেভাগে সাফারির টিকিট বুক করে রাখতে পারবেন।

জলদাপাড়ার ডিএফও পারভিন কাশোয়ান জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থায় পর্যটকরা আগে থেকেই বেড়ানোর পরিকল্পনা করতে পারবেন। পাশাপাশি, ফেরার ব্যবস্থাও গুছিয়ে নিতে সুবিধা হবে তাঁদের। পুজোর ছুটিতে জলদাপাড়ায় পর্যটকদের ভিড় বাড়লে এই উদ্যোগ কতটা কাজে আসে, সেটাই এখন দেখার।

অন্যদিকে, বক্সা টাইগার রিজার্ভে বনবস্তিবাসীদের আন্দোলনের জেরে ব্যাহত হচ্ছে পর্যটন। রাজাভাতখাওয়া গেটের কাছে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছেন জঙ্গলের ভিতরে থাকা ১৮টি বনবস্তির বাসিন্দারা। তাঁদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সাফারি গাড়ির চালকরাও। এর ফলে বন্ধ রয়েছে বক্সার কার সাফারি।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বনদফতর পদক্ষেপে তাঁদের খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বনাধিকার আইন, ২০০৬ লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও দাবি তাঁদের। বনবস্তিবাসী অয়ন নাইডুর অভিযোগ, পূর্ত দফতরের রাস্তায় বনদফতর টাকা আদায় করছে। এতে গ্রামবাসীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে, পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটনও। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও এই বিষয়ে বনকর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

উল্লেখ্য, বিহার থেকে আনা তিন বছর বয়সি একটি বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছে। সেই কারণে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে পর্যটন বন্ধ রেখেছিল বন্দফতর। ১০ অক্টোবর ফের পর্যটকদের জন্য বক্সা খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু বনবস্তিবাসীদের আন্দোলনের জেরে আবারও ব্যাহত হয়েছে পর্যটন পরিষেবা। ফলে পুজোর মরশুমে বক্সায় সাফারি কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

Leave a comment