দুর্গাপুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে প্রতিমার সাজসজ্জা দেখতে ভিড় জমান বহু মানুষ। কোথাও ডাকের সাজ, কোথাও আবার সোনা-রুপোর গয়নায় সেজে ওঠেন মা দুর্গা। কলকাতার বেশ কয়েকটি বারোয়ারি পুজোয় দেবীর গায়ে থাকে দামি স্বর্ণালঙ্কার। সেই গয়না চুরি রুখতে এ বার বাড়তি সতর্ক কলকাতা পুলিশ। উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার ১৫টি পুজোমণ্ডপে প্রতিমার অলঙ্কার পাহারায় সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করেছে লালবাজার। পুজোর দিনগুলিতে রাতেও চলবে নজরদারি।
কলকাতার বনেদি বাড়ির পুজো ঘিরে নানা জনশ্রুতি রয়েছে। কথিত আছে, উত্তর কলকাতার শিবকৃষ্ণ দাঁর বাড়িতে সাজেন মা দুর্গা, কুমোরটুলির অভয়চরণ মিত্রর বাড়িতে ভোগ খান। শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো নিয়েও প্রচলিত নানা কাহিনি। তবে বনেদি বাড়ির পাশাপাশি শহরের একাধিক বারোয়ারি পুজোতেও সোনার গয়নায় সাজানো হয় দেবীকে। সেই অলঙ্কার দেখতে মণ্ডপে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। ভিড়ের মধ্যে কেউ যাতে গয়না হাতানোর সুযোগ না পায়, সে জন্য নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
লালবাজার সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্য কলকাতার একটি বড় ও জনপ্রিয় পুজোমণ্ডপে গয়না পাহারার দায়িত্বে রয়েছেন দু’জন পুলিশ আধিকারিক ও দু’জন রাইফেলধারী পুলিশকর্মী। আধিকারিকদের মধ্যে একজন সাব-ইন্সপেক্টর বা সার্জেন্ট এবং অন্যজন অ্যাসিস্ট্যান্ট সাব-ইন্সপেক্টর। তাঁদের কাছে থাকছে সার্ভিস পিস্তল।
তালতলার এসএন ব্যানার্জি রোডের একটি মণ্ডপে দায়িত্বে রয়েছেন একজন এসএসআই ও দু’জন রাইফেলধারী কনস্টেবল। বাকি ১৩টি মণ্ডপে স্বয়ংক্রিয় রাইফেল-সহ দু’জন করে পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
এই ১৩টি মণ্ডপের মধ্যে চারটি রয়েছে পূর্ব কলকাতার বেনিয়াপুকুর এলাকায়। এ ছাড়া উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর ও জোড়াবাগান এবং দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জ, কালীঘাট, ভবানীপুর, গড়িয়াহাট ও পঞ্চসায়রের কয়েকটি পুজোয় থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা। পূর্ব কলকাতার এন্টালিতেও থাকছেন সশস্ত্র পুলিশকর্মীরা।
সাধারণত বিসর্জনের আগে প্রতিমার গা থেকে গয়না খুলে নিজেদের হেফাজতে রাখেন পুজো উদ্যোক্তারা। তার আগে মণ্ডপে প্রতিমা থাকা অবস্থায় গয়না চুরির আশঙ্কা থেকেই যায়। বিশেষ করে ভিড় কমে গেলে দুষ্কৃতীরা সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সেই কারণেই পুলিশের সাহায্য চেয়েছেন উদ্যোক্তারা।
পুলিশকর্মীদের দু’টি শিফটে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে পাহারায় কোনও ফাঁক না থাকে। দর্শনার্থীরা যাতে প্রতিমার খুব কাছে যেতে না পারেন, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, মণ্ডপে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। স্বেচ্ছাসেবকদের সতর্ক রাখার পাশাপাশি বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীও নিয়োগ করেছেন উদ্যোক্তারা। কয়েকটি মণ্ডপে থাকছেন গানম্যানও। প্রতিমার গায়ে গয়না থাকা পর্যন্ত চলবে এই কড়া পাহারা।

Leave a comment