হাসপাতাল পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব শুধু স্বাস্থ্য দফতরের নয়, পুরসভারও। শহরাঞ্চলের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে বর্জ্য জমে থাকা ঠেকাতে এবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরকে চিঠি দিল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর। শুক্রবার পাঠানো ওই চিঠিতে হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার রাখা থেকে শুরু করে আবর্জনা সংগ্রহ, নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক রাখা—একাধিক বিষয়ে পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
স্বাস্থ্যভবন জানিয়েছে, হাসপাতাল চত্বরেই অজৈব বর্জ্য রাখার জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করতে হবে। সেখান থেকে নিয়ম করে আবর্জনা সংগ্রহ করবেন পুরকর্মীরা। হাসপাতালের বহির্বিভাগ-সহ বিভিন্ন জায়গায় আলাদা ধরনের বর্জ্য ফেলার জন্য রাখতে হবে ভিন্ন রঙের ডাস্টবিন। বর্জ্য সরানোর সময় যাতে স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।
হাসপাতালের বাইরের পরিস্থিতিও যাতে অবহেলিত না থাকে, সেই নির্দেশ রয়েছে চিঠিতে। হাসপাতাল সংলগ্ন রাস্তা ও নর্দমা সংস্কারের পাশাপাশি ঝোপ-জঙ্গল এবং আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। কাজের তদারকির জন্য স্থানীয় নোডাল অফিসারদের যোগাযোগের নম্বর দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। প্রয়োজনে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষরা তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।
পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অভিযোগের পর বিষয়টি নতুন করে সামনে আসে। হাসপাতাল চত্বরে বর্জ্য পড়ে থাকার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো। এরপর হাসপাতালের সুপার-সহ আট জনকে শোকজ করা হয়।
এর পরেই রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজগুলির অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষদের নিয়ে বৈঠক করে স্বাস্থ্যভবন। হাসপাতাল দিনে অন্তত তিন বার পরিষ্কার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ না মানলে পরিষ্কারের দায়িত্বে থাকা সংস্থার টেন্ডার বাতিলের কথাও জানানো হয়েছিল। এবার শহরের হাসপাতালগুলিতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পুরসভাগুলির উপরেও নজরদারি বাড়াতে চাইছে স্বাস্থ্য দফতর।

Leave a comment