সরশুনায় তরুণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগে এবার তিন অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গেল পুলিশ। মঙ্গলবার নাবালিকার বাবা, মামা ও আরও এক অভিযুক্তকে কোমরে দড়ি বেঁধে খালি গায়ে এলাকায় ঘোরানো হয়। ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে তরুণ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই সরশুনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

এই ঘটনায় নাবালিকার বাবা, মা ও মামাকে আগেই গ্রেফতার করেছে সরশুনা থানার পুলিশ। পরে গ্রেফতার করা হয় আরও এক ব্যক্তিকে। অভিযোগ, তিনিই ঘটনার ভিডিও করেছিলেন। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। খুনের চেষ্টা, অস্ত্র দিয়ে আঘাত, বেআইনিভাবে আটকে রাখা ও মানহানির অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র আইনেও মামলা হয়েছে।

ঘটনাটি গত ২৫ তারিখের। অভিযোগ, সরশুনা থানা এলাকার এক তরুণ স্থানীয় খালপাড় মাঠে তাঁর নাবালিকা প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাঁর এক বন্ধু কিছুটা দূরে ছিলেন। সেখানে প্রেমিকাকে চুম্বন করেন ওই তরুণ। সেই সময় তাঁদের ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন নাবালিকার মামার এক বন্ধু। পরে তিনি বিষয়টি নাবালিকার পরিবারকে জানান।

এরপর তরুণ ও তাঁর বন্ধুকে ডেকে পাঠান নাবালিকার মা, বাবা ও মামা। অভিযোগ, সেখানে তাঁদের হেনস্তা করা হয়। পরে ডেকে পাঠানো হয় তরুণের বাবাকেও। অভিযোগ, নগ্ন হয়ে রাস্তায় না হাঁটলে গুলি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। এরপর তরুণ, তাঁর বন্ধু ও বাবাকে বাড়ির সামনের গলি দিয়ে নগ্ন অবস্থায় প্রায় ৫০ মিটার হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ।

সেই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। একে একে গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্তদের। মঙ্গলবার তাঁদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়াকে ঘিরে ফের চর্চা শুরু হয়েছে এলাকায়। ঘটনার পিছনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

Leave a comment