বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মায়ানমারের এক তরুণীকে ভারতে নিয়ে আসার পর তাঁকে আটকে রেখে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, হায়দরাবাদের একটি ভাড়া বাড়িতে স্ত্রীকে তালাবন্দি করে রাখতেন মহম্মদ ফয়াজ। এমনকী, স্ত্রীকে ধর্ষণ করতে নিজের তিন বন্ধুকেও বাড়িতে পাঠাতেন তিনি। প্রায় এক মাস ধরে এই নির্যাতন সহ্য করার পর বাড়ির মালিকের সাহায্যে মুক্তি পান ১৮ বছরের তরুণী। এরপরই পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযুক্ত স্বামী ও তাঁর তিন বন্ধুর খোঁজে তল্লাশি চলছে।
তামান্না নামে ওই তরুণীর বাড়ি মায়ানমারে। বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে কক্সবাজারে থাকাকালীন ফয়াজের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সেখান থেকেই প্রেমের সম্পর্ক। অভিযোগ, গত মে মাসে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তামান্নাকে নিয়ে পালিয়ে আসেন ফয়াজ। এরপর দু’জনে হায়দরাবাদের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন। সেখানেই তাঁদের বিয়ে হয়।
তবে বিয়ের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলে যায় বলে অভিযোগ তামান্নার। তাঁর দাবি, বাড়িতে তালাবন্দি করে রাখা হত তাঁকে। বাইরে বেরনোরও অনুমতি ছিল না। এরই মধ্যে ফয়াজের তিন বন্ধু আহমেদ মুজিব, নুর কামাল ও জিয়াউর রহমানকে বাড়িতে নিয়ে আসা হত বলে অভিযোগ। তাঁরা তরুণীকে ধর্ষণ করতেন বলে দাবি তাঁর। প্রতিবাদ করলে স্বামী ও তাঁর বন্ধুরা খুনের হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগ।
শেষ পর্যন্ত বাড়ির মালিকের সাহায্যেই বন্দিদশা থেকে বেরিয়ে আসেন তামান্না। গত সপ্তাহে ভাড়া নিতে ওই বাড়িতে এসেছিলেন মালিক। তখনই তাঁর নজরে আসে বিষয়টি। দরজা খুলে তরুণীকে উদ্ধার করেন তিনি। তামান্নার কাছে পুরো ঘটনা শোনার পর তাঁকে সেখান থেকে পালিয়ে যেতেও সাহায্য করেন।
এরপর পুলিশের কাছে গিয়ে স্বামী ও তাঁর তিন বন্ধুর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তামান্না। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে জোর করে আটকে রাখা, ধর্ষণসহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তবে এখনও চার অভিযুক্তের কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি। তাঁদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে।

Leave a comment