পাইপলাইনে জল আসছে, অথচ সেই জল বন্ধ করার উপায় নেই। কারণ, কল খুলে নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা। ফলে জল সরবরাহ শুরু হলেই অনবরত জল পড়তে থাকে। প্রয়োজন মিটে গেলেও তা বন্ধ করা যায় না। বীরভূমের বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েত এলাকায় এই সমস্যায় জেরবার প্রশাসন। রাস্তায় জল জমছে, আবার কোথাও সেই জল বয়ে যাচ্ছে নিকাশি নালায়। এভাবে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে প্রচুর পানীয় জল।
জেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্দিষ্ট সময় অন্তর পাইপলাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হয়। বাসিন্দারা যাতে সহজে জল নিতে পারেন, সেই জন্য পাইপের মুখে কল লাগানো থাকে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেই কল খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠছে বারবার। ফলে পরদিন জল এলেও তা বন্ধ করার উপায় থাকছে না। প্রশাসনিক আধিকারিকদের একাংশের দাবি, এই অপচয় বন্ধ করা গেলে জেলার আরও ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মানুষকে অতিরিক্ত পানীয় জল দেওয়া সম্ভব।
একাধিক পুরসভা ও পঞ্চায়েতের আধিকারিকদের বক্তব্য, এলাকায় নেশার প্রবণতার সঙ্গে এই ঘটনার যোগ রয়েছে। আগে পাইপলাইনে লোহার কল বসানো হত। অভিযোগ, সেগুলি খুলে বিক্রি করে পাওয়া টাকা দিয়ে নেশার সামগ্রী কেনা হত। সেই কারণে চুরি আটকাতে পরে কম দামি প্লাস্টিকের কল বসানো শুরু হয়। কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি।
আধিকারিকদের দাবি, মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকাতেও প্লাস্টিকের কল বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে লোহার বদলে প্লাস্টিক ব্যবহার করেও চুরি আটকানো যাচ্ছে না।
চুরি আটকাতে আরও সস্তার কল ব্যবহারের কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও সমস্যা। কম দামি কল কয়েক দিনের মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে বা খারাপ হয়ে পড়ছে। ফলে ঘন ঘন কল বদলাতে হচ্ছে। একদিকে চুরি, অন্যদিকে কল নষ্ট হওয়ার খরচ—দুই সামলাতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে পুরসভা ও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ।
শুধু কম দামি কল বসিয়ে যে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না, তা বুঝতে পারছেন আধিকারিকরাও। তাই কল চুরি আটকানোর পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো এবং টেকসই কল ব্যবহারের বিকল্প খোঁজার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও যদি এভাবে জল নষ্ট হয়, তা হলে আরও বেশি মানুষের কাছে জল পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও কমে যাবে।

Leave a comment