আয়ুর্বেদ চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলায় বড় পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, বিষ্ণুপুরে প্রায় ১২০ বিঘা জমি প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ তৈরির জন্য। দিল্লির সরিতা বিহারে থাকা এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের আদলে বাংলাতেও আয়ুর্বেদের উন্নত চিকিৎসা ও গবেষণার সুযোগ এক ছাদের নীচে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানে ৩০০ বেডের হাসপাতালের পাশাপাশি ১০০ আসনের একটি কলেজও থাকবে। চিকিৎসার পাশাপাশি আয়ুর্বেদ সংক্রান্ত উচ্চতর গবেষণার ক্ষেত্রেও এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার আয়ুর্বেদ দিবসের অনুষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সেন্ট্রাল আয়ুর্বেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সদস্যদের বৈঠকে রাজ্যকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
শুধু বিষ্ণুপুরেই নয়, রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় আয়ুষ পরিষেবা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, হাওড়া, কল্যাণী এবং দুবরাজপুরে ৫০ বেডের ইন্টিগ্রেটেড আয়ুষ হাসপাতাল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজ্যের প্রতিটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে আয়ুষের ওপিডি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশের পন্ডিচেরি ও দিল্লি এইমসের মতো বাংলার সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও আয়ুষের ওপিডি চালু করার উদ্যোগ চলছে। বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১৮০০টি ওপিডিতে অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়।
আয়ুষ দফতরের সঙ্গে যুক্ত ডা. সুমিত সুর জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পৌঁছে দিতে রাজ্যে অন্তত এক হাজার ওপিডি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই কাজ এগোচ্ছে। পাশাপাশি রাজ্যের ৩০টি ব্লকে ১০ বেডের আয়ুষ হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। সেখানে আয়ুষের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার পাশাপাশি পঞ্চকর্মের মতো পরিষেবাও পাওয়া যাবে।
এদিনের আয়ুর্বেদ দিবসের অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল আয়ুর্বেদ রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নেয় আরোগ্যভারতী। সংগঠনের কলকাতা মহানগর প্রেসিডেন্ট শর্মিষ্ঠা বিশ্বাসের বক্তব্য, বাঙালির নিজস্ব খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির সঙ্গে আয়ুর্বেদের প্রসারের কোনও বিরোধ নেই।

Leave a comment