পুজোর মুখে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে বড় বদল। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে গঙ্গার উপর তৈরি নতুন চার লেনের ফরাক্কা সেতুতে শুরু হবে যান চলাচল। এতদিন একটি লেন দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে গাড়ি চলছিল। এবার চার লেনই খুলে দেওয়া হবে। নতুন সেতু চালু হলে পুরনো ফরাক্কা ব্যারেজের উপর চাপও কমবে।

২০১৮ সালে সেতু তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রায় ৫১২ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই প্রকল্পে। সেতুর মোট দৈর্ঘ্য ৫.৪৬৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে মূল সেতু ২.৪৬৮ কিলোমিটার। দুই দিকে সংযোগকারী রাস্তা রয়েছে তিন কিলোমিটার। মাস তিনেক আগে একটি লেন দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছিল। এবার গোটা সেতুটিই খুলে দেওয়া হচ্ছে।

ফরাক্কা ব্যারেজের উপর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার গাড়ি যায়। দু’লেনের রাস্তা হওয়ায় গাড়ির চাপ সামলাতে গিয়ে প্রায়ই যানজট তৈরি হয়। পুজো বা অন্য লম্বা ছুটিতে সেই সমস্যা আরও বাড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে পণ্যবাহী ট্রাকও। নতুন সেতু চালু হলে গাড়ির একটা বড় অংশ ওই পথে চলে যাবে।

নতুন সেতুটি ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের অংশ। ফলে কলকাতা থেকে শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা ডুয়ার্সের দিকে যাতায়াতে সুবিধা হবে। যাত্রার সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত কমতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সড়কপথের দূরত্বও কিছুটা কমবে।

নতুন সেতু নিয়ে খুশি ফরাক্কার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘদিন ধরেই এই সেতু চালুর অপেক্ষা ছিল। পুজোর সময়ে উত্তরবঙ্গে পর্যটকদের ভিড় বাড়ে। তাই পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরাও মনে করছেন, সেতু চালু হলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন পর্যটকেরা।

তবে নতুন সেতু চালুর পর পুরনো ব্যারেজের রক্ষণাবেক্ষণও জরুরি। একইসঙ্গে দুই সেতুতে কীভাবে গাড়ি চলাচল করবে, সেই ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও নজর রাখতে হবে। তাহলেই ফরাক্কায় দীর্ঘদিনের যানজটের সমস্যা আরও কার্যকরভাবে কমানো যাবে।

Leave a comment