পুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই দুর্গোৎসবের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত মহিষাদলের অদ্রিজা ক্লাব। দীর্ঘদিন ধরে মহিলা সদস্যদের পরিচালনায় চলে আসা এই ক্লাবে এবার দুর্গাপুজোর বাজেট একলাফে বেড়ে হয়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। ক্লাবের দাবি, গত বছর পুজোর বাজেট ছিল আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকার মধ্যে।
অদ্রিজা ক্লাবের অধিকাংশ সদস্যই প্রান্তিক পরিবারের মহিলা। তাঁদের মধ্যে অনেকেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। ক্লাবের সদস্যদের একাংশ জানিয়েছেন, প্রকল্পের মাধ্যমে দু’মাসে পাওয়া ৬,০০০ টাকার একটি অংশ তাঁরা পুজোর জন্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁদের মতে, এই আর্থিক সহায়তার ফলে পুজোর আয়োজনে সদস্যদের ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার সুযোগ কিছুটা বেড়েছে।
অবশ্য ক্লাবের মোট পাঁচ লক্ষ টাকার বাজেট শুধুমাত্র অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের অর্থ থেকে নয়। সদস্যদের অনুদান, স্থানীয় বাসিন্দাদের চাঁদা এবং অন্যান্য সহযোগিতার মাধ্যমেও পুজোর অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে।ইতিমধ্যেই পুজোর জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা সংগ্রহ শুরু করেছেন ক্লাবের মহিলা সদস্যরা।
সম্প্রতি অদ্রিজা ক্লাবের পুজোর খুঁটিপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ক্লাবের মহিলা সদস্যদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। খুঁটিপুজোর পর থেকেই মণ্ডপ তৈরির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। এবারের পুজোয় প্রতিমা, মণ্ডপসজ্জা এবং আলোকসজ্জায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
ক্লাবের সভাপতি নুপুর সামন্ত বলেন, “আমাদের ক্লাবের বেশিরভাগ সদস্য প্রান্তিক মহিলা। সরকারি প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা মহিলা পরিচালিত পুজোকে কিছুটা স্বনির্ভর হতে সাহায্য করেছে। সেই অর্থের একটি অংশ দিয়ে এবছর পুজোর আয়োজন আরও বড় করে করার সুযোগ পেয়েছি। এজন্য আমরা নতুন সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”
অন্যদিকে সম্পাদক রেখা দাস বলেন, “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে টাকা পেয়ে আমরা এবারে খুব ভালোভাবে পুজো করতে পারব। গত বছর পুজোর বাজেট ছিল আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা। এ বছর পুজোর বাজেট পাঁচ লক্ষ টাকা হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতাতেও খুশি ক্লাবের সদস্যরা। তাঁদের আশা, সদস্যদের উদ্যোগ এবং এলাকার মানুষের সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপুজো আরও বড় আকার নেবে। পুজোর দিনগুলিতে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ও বাড়বে বলে প্রত্যাশা ক্লাব কর্তৃপক্ষের।

Leave a comment