সিটঙের হোমস্টেতে বারবিকিউয়ের আগুনে গুরুতর দগ্ধ চোপড়ার নববধূ নিকিতা সাহার অবস্থা এখনও সংকটজনক। শিলিগুড়ির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। শরীরের প্রায় ৭০ শতাংশ পুড়ে যাওয়া নিকিতার কথা বলার ক্ষমতাও ধীরে ধীরে কমে আসছে বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বামী সৌভিক দাস।
এই ঘটনায় তদন্তে নেমে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন জমির মালিক নেহাল আজরান, হোমস্টের দেখভালের দায়িত্বে থাকা পবন কুমার আগরওয়াল, কর্মী দীপেন লামা এবং শ্রমিক নাসির উদ্দিন। নেহাল, পবন ও দীপেন কার্শিয়াঙের বাসিন্দা। নাসির উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার বাসিন্দা। গ্রেপ্তারের পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌভিক ও নিকিতা প্রায় আট বছর প্রেমের সম্পর্কে থাকার পর জুলাই মাসে বিয়ে করেন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর মধুচন্দ্রিমার জন্য সিটঙে যান নবদম্পতি। একটি হোমস্টেতে ওঠার পর রাতে বারবিকিউয়ের আয়োজন করা হয়। সেই সময়ই আচমকা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
সৌভিকের অভিযোগ, বারবিকিউয়ের আগুনে এক অদক্ষ কর্মী তারপিন তেল ঢেলে দেন। এরপর মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিকিতা আগুনে ঝলসে যান। স্ত্রীকে উদ্ধার করতে গিয়ে সৌভিকের হাতও পুড়ে যায়। ঘটনার দৃশ্য হোমস্টের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দুর্ঘটনার পর স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ি পেতে দেরি হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছেন সৌভিক।
তাঁর দাবি, প্রায় আধঘণ্টা পরে গাড়ি পাওয়া যায়। সেই গাড়িতেই নিকিতাকে নিয়ে শিলিগুড়ির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। কার্শিয়াঙের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনিন্দ সুন্দর ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।
এদিকে নিকিতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে চিন্তায় পরিবার।
সৌভিক জানিয়েছেন, আগের দিন অল্প কথা বললেও এখন সেই ক্ষমতা আরও কমেছে। চিকিৎসকেরা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন। আপাতত হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন নিকিতা। তাঁর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছে পরিবার।

Leave a comment