বিশেষ ক্লাসের কথা বলে ডেকে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল আদালত। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালে ময়নাগুড়িতে। জলপাইগুড়ির পকসো আদালত অভিযুক্ত শিক্ষক নিতাই বিশ্বাসকে দোষী সাব্যস্ত করে বৃহস্পতিবার সাজা ঘোষণা করেছে। আদালতের নির্দেশ, এক লক্ষ টাকা জরিমানার পাশাপাশি নির্যাতিতার পরিবারকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য দিতে হবে।

পুলিশ ও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ অগস্ট বিশেষ ক্লাসের কথা বলে ওই ছাত্রীকে টিউটোরিয়াল হোমে ডেকেছিলেন ইংরেজির শিক্ষক নিতাই। সেখানে গিয়ে ছাত্রী দেখতে পায়, আর কেউ নেই। এরপর বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষক তাকে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়া সত্ত্বেও জোর করে তাকে চারচাকা গাড়িতে তোলা হয়। অভিযোগ, এরপর একটি রিসর্টে নিয়ে গিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগ, ঘটনার পর শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বাড়ি ফেরে ওই ছাত্রী। বাবা-মা জানতে চাইলে প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখে সে। পরে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা জানায়। এরপর এক আত্মীয়ের পরামর্শে পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।

১২ অগস্ট ময়নাগুড়ি থানার অন্তর্গত একটি ফাঁড়িতে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় অভিযুক্ত শিক্ষককে। তদন্তের স্বার্থে নাবালিকার মেডিক্যাল পরীক্ষা, গোপন জবানবন্দি-সহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পকসো আইনের ৬ ধারায় মামলা রুজু করে তদন্তের শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।

মামলার শুনানিতে মোট ৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। দু’পক্ষের বক্তব্য এবং সওয়াল-জবাব শোনার পর বুধবার নিতাইকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। তার পরদিনই সাজা ঘোষণা করা হয়। পকসো আদালতের বিচারক ইন্দ্রিলা মুখোপাধ্যায় মিশ্র অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানার নির্দেশ দিয়েছেন। নির্যাতিতার পরিবারকে আর্থিক সাহায্য দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

সহকারী সরকারি আইনজীবী দেবাশিস দও জানান, ২০২৪ সালে পড়ানোর নাম করে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করেছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে এবং নির্যাতিতাকে চার লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্যের নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a comment