নেপালে ফের ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই কালী গণ্ডোকী নদী সংলগ্ন এলাকায় পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে লোকালয়ের দিকে নেমে আসে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ১৪ জন। ধসের ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সোমবারের এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যাচ্ছে, পাহাড়ের উপর থেকে মাটির সঙ্গে পাথরের বিশাল অংশ আচমকাই নিচের দিকে গড়িয়ে আসছে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই পাহাড়ের একটি বড় অংশ কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এমন দৃশ্য দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে।
ধসের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে মানাং, মায়াগডি, বাগলুং, পর্বত এবং পল্পা এলাকায়। বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে লাগাতার বৃষ্টি হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণেই এই ধস কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে উদ্ধারকাজ চলছে। নিখোঁজদের সন্ধানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে।
এর মাত্র একদিন আগেই তুষারধসে বিপর্যস্ত হয়েছিল নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকা। হিমলাং হিমল শৃঙ্গের বেস ক্যাম্পের কাছে তুষারধসের ঘটনায় অন্তত ১০ জনের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের এই ধারাবাহিকতায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নেপালে। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ হড়পা বানে দেশের মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বিপর্যস্ত হয়েছিল। সরকারি হিসাবে সেই ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১৫০০ ছাড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ। সেই বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের পাহাড়ধস ও তুষারধসে বিপর্যস্ত হিমালয়ের এই দেশ।

Leave a comment