রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়ে কোনও উত্তর না দিয়েই চলে গেলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। লস্কর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে কবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পাকিস্তান কবে জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবে—পরপর এই প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। দুই ক্ষেত্রেই নীরব থাকেন পাক প্রধানমন্ত্রী। ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রসংঘের সদর দফতরে ঢোকার সময় প্রথমে শাহবাজকে প্রশ্ন করা হয়, “আপনি কবে সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়া বন্ধ করবেন?” প্রশ্ন শুনেও কোনও জবাব না দিয়ে এগিয়ে যান তিনি। পরে রাষ্ট্রসংঘের অনুষ্ঠান শেষে বেরনোর সময় ফের তাঁকে থামিয়ে হাফিজ সইদের প্রসঙ্গে জানতে চান সাংবাদিকরা। লস্কর-ই-তইবার প্রধানের বিরুদ্ধে কবে মামলা চালানো হবে, জানতে চাওয়া হলেও এবারও কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি শাহবাজ।

হাফিজ সইদ লস্কর-ই-তইবার প্রতিষ্ঠাতা এবং ২৬/১১ মুম্বই হামলা মামলায় ভারতের অন্যতম অভিযুক্ত। ভারতীয় আইনে তিনি ঘোষিত সন্ত্রাসবাদী। ২০২৫ সালের পহেলগাঁও হামলার তদন্তে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এনআইএ-র সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটেও হাফিজ সইদের নাম রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার শীর্ষ নেতৃত্ব ওই হামলার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিল।

এই ঘটনার আগে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে পাকিস্তানকে নিশানা করে বক্তব্য রাখে ভারত। ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতীশ ত্যাগী পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ এবং অন্য দেশের ভূখণ্ড নিয়ে অবস্থানের পরিবর্তে নিজেদের অর্থনীতি ও উন্নয়নের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্যে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের উপর দমন-পীড়ন, বিক্ষোভে প্রাণহানি এবং খাবার ও ওষুধ সরবরাহ নিয়ে অভিযোগও উঠে আসে।

রাষ্ট্রসংঘের অধিবেশনকে কেন্দ্র করে ভারত-পাকিস্তান চাপানউতোরের মধ্যেই শাহবাজ শরিফের এই দুই প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। ফলে সন্ত্রাসবাদ এবং হাফিজ সইদকে ঘিরে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

Leave a comment