ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ডাক দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর প্রস্তাব, হিমালয়কে রক্ষা করতে ভারত, চিন ও নেপালকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
নেপালের সাম্প্রতিক ভয়াবহ হড়পা বানের প্রসঙ্গ তুলে বলেন্দ্র জানান, হিমালয় এলাকায় পরিবেশগত সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। এর প্রভাব শুধু কোনও একটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, গোটা বিশ্বের উপরই তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই ভবিষ্যতের বিপর্যয় মোকাবিলায় আগেভাগেই আন্তর্জাতিক স্তরে প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে বার্তা দেন তিনি।
বলেন্দ্রর বক্তব্য, প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কোনও সীমান্ত বা পাসপোর্ট নেই। বন্যা কিংবা অন্য কোনও দুর্যোগ কোনও দেশের মানচিত্র মেনে এগোয় না। তাই ভারত, চিন ও নেপালকে নিয়ে একটি ‘হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপর্যয়ের আগে সতর্কবার্তা দেওয়া থেকে শুরু করে দুর্যোগের পর উদ্ধার ও পুনর্গঠন—সব ক্ষেত্রেই তিন দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ভারত ও চিনের সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, বিপর্যয়ের পর দুই প্রতিবেশী দেশ দ্রুত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। পাশাপাশি অন্যান্য দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠনের কাছ থেকেও নেপাল সহায়তা পেয়েছে বলে জানান তিনি।
বলেন্দ্র আরও বলেন, ভয়াবহ বিপর্যয়ে দেশের পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেই ক্ষয়ক্ষতি মেরামত করতে নেপালের মতো দরিদ্র দেশকে ঋণের বোঝা নিতে হচ্ছে। আগামী দিনে হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চলে বসবাসকারী বিপুল সংখ্যক মানুষের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভারত ও চিনকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজন বলেই রাষ্ট্রসংঘে বার্তা দেন তিনি।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, গত এক দশক ধরে তাঁর দেশ দুই প্রতিবেশীর সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। সেই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়েই হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ ও মানুষের নিরাপত্তার জন্য তিন দেশের যৌথ উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

Leave a comment