প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর ‘কালো জাদু’র প্রভাব কাটিয়ে তাঁকে ফেরানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। সেই কথায় বিশ্বাস করে একের পর এক তান্ত্রিকের দ্বারস্থ হন এক যুবতী। অভিযোগ, যজ্ঞ ও নানা ধরনের তন্ত্রসাধনার নামে তাঁর কাছ থেকে টাকা এবং গয়না নেওয়া হয়। কিন্তু প্রেমিককে ফেরানো যায়নি। বরং টাকা ও গয়না ফেরত চাইতে গিয়ে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনায় এক দম্পতিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই যুবতী।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চান্নগ্রামের বাসিন্দা ওই যুবতীর গত এপ্রিল মাসে প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। সেই সময় কসবার রাজডাঙার পরিচিত এক দম্পতি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, তাঁরাই যুবতীকে বলেন, ‘কালো জাদু’র কারণেই প্রেমের সম্পর্ক নষ্ট হয়েছে। তান্ত্রিকের সাহায্য নিলে সেই প্রভাব কাটানো সম্ভব বলেও তাঁকে জানান তাঁরা।

এরপর ওই দম্পতির সঙ্গে মগরাহাটের এক তান্ত্রিকের কাছে যান যুবতী। সেখানে যজ্ঞের জন্য প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু তাতেও কোনও পরিবর্তন হয়নি। প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কও ফেরেনি।

এর পর অন্য এক তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। সেখানে ‘অশুভ শক্তি’ কাটানোর জন্য বিশেষ ‘ক্রিয়া’ করার কথা বলা হয়। অভিযোগ, সেই ক্রিয়ার জন্য সোনা প্রয়োজন বলে জানানো হয়েছিল। এরপর যুবতীর কাছ থেকে সোনার গয়না নেওয়া হয়। একটি সোনা ও মুক্তোর নেকলেসও তিনি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

তাতেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় তাঁকে কসবার সুইনহো লেনের আরও এক তান্ত্রিকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও টাকা নিয়ে যজ্ঞ ও ‘ক্রিয়া’ করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু প্রেমিককে ফেরানো সম্ভব হয়নি।

জুলাই মাসে টাকা ও গয়না ফেরত চান যুবতী। অভিযোগ, এরপরই তাঁকে মারধর করা হয়। শ্লীলতাহানি এবং ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর। প্রথমে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ জানান তিনি। পরে ডিসি (ইস্ট)-এর কাছেও লিখিত অভিযোগ করেন।

পুলিশের হস্তক্ষেপে সম্প্রতি আনন্দপুর থানায় মামলা রুজু হয়েছে। ওই দম্পতি এবং তিন তান্ত্রিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। টাকা ও গয়না নেওয়া এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a comment