শিশুর জন্মের পর শ্রবণশক্তিতে কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা দ্রুত চিহ্নিত করতে রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে ‘উজ্জ্বল শৈশব’ প্রকল্প। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে নবজাতকদের শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, জন্মের পর দ্রুত সমস্যা শনাক্ত হলে উপযুক্ত চিকিৎসার মাধ্যমে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের সুযোগ বাড়ানো যায়।
চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি এক হাজার শিশুর মধ্যে গড়ে ৯ জন শ্রবণশক্তির সমস্যা নিয়ে জন্মায়। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৪ জনের সমস্যা অত্যন্ত গভীর হতে পারে। সময়ের আগে জন্মানো শিশুদের ক্ষেত্রে এই হার আরও বেশি। কান, নাক ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. এন ভি কে মোহনের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রিম্যাচিওর শিশুদের মধ্যে প্রতি হাজারে প্রায় ৫০ জনের শ্রবণশক্তির সমস্যা দেখা যায়।
তবে সময়মতো সমস্যা ধরা পড়লে চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক শিশুকেই স্বাভাবিক জীবনের পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। তারই উদাহরণ জয়নগরের সৌমিতা প্রামাণিক। মাত্র ছ’মাস বয়সে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, সৌমিতা শুনতে পাচ্ছেন না। প্রথমে হিয়ারিং এড ব্যবহার করা হলেও তাতে কাঙ্ক্ষিত ফল মেলেনি। পরে তাঁর ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্ট করা হয়।
পরবর্তীকালে পড়াশোনায় নজরকাড়া সাফল্য পান সৌমিতা। সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় তাঁর র্যাঙ্ক ২১৯১। বর্তমানে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে এমবিবিএস পড়ছেন। শুক্রবার অনুষ্ঠানে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ।
সিএমআরআই হাসপাতাল, মহাবীর সেবা সদন, অন্বেষা এবং সোসাইটি ফর দ্য মেনস্ট্রিম ইন্টিগ্রেশন অফ দ্য ডেফ-এর যৌথ উদ্যোগে ‘উজ্জ্বল শৈশব’ প্রকল্প শুরু হচ্ছে। রাজ্য সরকারও এই উদ্যোগে সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
প্রকল্পের উপদেষ্টা ডা. অরুণকুমার সিং শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে জ্ঞানেন্দ্রিয়ের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, শ্রবণশক্তি শিশুর বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই জন্মের পর থেকেই শ্রবণ সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা দরকার।
অনুষ্ঠানে সোমব্রত রায় এবং ডা. অমিতাভ চন্দ-সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। রাজ্যের প্রত্যন্ত এলাকার নবজাতকদেরও যাতে দ্রুত শ্রবণ পরীক্ষার আওতায় আনা যায়, সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছে এই উদ্যোগ।

Leave a comment