চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে আরও এক ঘোষককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতের নাম বাবু মজুমদার ওরফে কালিয়া। অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় মাইকে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করেছিলেন তিনি। তাতে ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এই ঘটনায় এর আগে সেন্টু নামে আর এক ঘোষককে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
গত শনিবার সপ্তমীর রাতে চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় ১৯ জনের। আহত হন অন্তত ২৫ জন। অভিযোগ, ভিড়ের মধ্যে মাইকে ঘোষণা করা হয়েছিল, মণ্ডপের একাংশ ভেঙে পড়েছে। এই খবর ছড়াতেই দর্শনার্থীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। কে বা কারা এই ঘোষণা করেছিলেন, কেনই বা এমন কথা বলা হয়েছিল, তা জানতে শুরু থেকেই ঘোষকদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।
প্রথমে নদিয়া থেকে সেন্টুকে আটক করে কলকাতায় নিয়ে আসে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এবার গ্রেফতার হলেন বাবু ওরফে কালিয়া। ঘটনার পর তিনি নদিয়ায় চলে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর ঘোষণার নেপথ্যে অন্য কারও ভূমিকা ছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানান, এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশও কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে। কয়েকজন আবার আত্মসমর্পণ করেছেন। দুর্ঘটনার পিছনে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে তদন্ত চলছে।
চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে সিটও গঠন করেছে রাজ্য সরকার। দুর্ঘটনার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী হাইকোর্টের কোনও বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের কথা ঘোষণা করেছিলেন। পরে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে চিঠি লেখেন। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠনের নির্দেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট।
সেই নির্দেশ মেনে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতীর নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। সিটে রয়েছেন বিপর্যয় মোকাবিলা ও নাগরিক সুরক্ষা দফতরের সচিব, স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের ডিজি ও আইজি। এ ছাড়াও রয়েছেন জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্য, স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিনিধি এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির প্রতিনিধি।
ভিড়ের মধ্যে কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, মাইকে ঘোষণার সঙ্গে দুর্ঘটনার যোগ কতটা এবং এর পিছনে কোনও পরিকল্পনা ছিল কি না, এখন সেই প্রশ্নগুলিরই উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।

Leave a comment