চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে চায় রাজ্য সরকার। আগামী বছরের দুর্গাপুজোয় যাতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আগে থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার রাতে শ্যামপুরের বেলপুকুর কলেজের মাঠে বিজয়া সম্মেলনীর অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আনন্দের মধ্যে বেদনা হয়েছে। চোরবাগানে মানুষের ভুলে বেশ কয়েকজনকে হারাতে হয়েছে। তার তদন্ত হবে।” তাঁর দাবি, ২৫ জনকে সুস্থ করা হয়েছে।মৃত ১৮ জনের মধ্যে ১২ জনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন তিনি। আগামী ২৩ ও ২৪ তারিখে বাকি ছ’জনের বাড়িতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হয় না। তবু সরকারের কিছু দায়িত্ব থাকে, সেই দায়িত্ব পালন করা হয়েছে। আগামী দিনে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সেই লক্ষ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিনের সভায় পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করতেও ছাড়েননি শুভেন্দু। শ্যামপুরের পুরনো অশান্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “যারা মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তুলেছিল তাদের প্রিজন ভ্যানে উঠতে হচ্ছে।” দুর্গাপ্রতিমা ভাঙার ঘটনা নিয়েও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
শ্যামপুরের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। এলাকার ১৪ শয্যার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ১০০ শয্যার করা হবে বলে জানান। সেখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে পরিষেবাও চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীবাঁধের ভাঙন রোধ এবং কাঠের সেতুগুলিকে পাকা করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি। বোয়ালিয়ায় বড় সেতু তৈরির পরিকল্পনার পাশাপাশি শ্যামপুরে পর্যটনের উন্নয়নের উপরেও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।
চাকরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন শুভেন্দু। আগামী বছরের ৮ মে-র মধ্যে এক লক্ষ যুবক-যুবতীর চাকরির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানান তিনি। নিয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখার আশ্বাসও দিয়েছেন।
পঞ্চায়েতের কাজ বাড়ানোর উপরেও জোর দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকশিত ভারত ভিবি জি রাম জি প্রকল্পে আগামী ছ’মাসের মধ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতে ৫০ লক্ষ টাকার কাজ করার আবেদন জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্পে ৩৭০ ধরনের কাজ করা যায়। আবাস যোজনার পরবর্তী ধাপে ২৫ লক্ষ বাড়ি তৈরির কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু।

Leave a comment