রান্নার গ্যাসের গ্রাহকদের জন্য বড়সড় সতর্কবার্তা। আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক e-KYC সম্পূর্ণ না করা থাকলে এবার LPG রিফিল বুকিং বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের নতুন নির্দেশের পর তেল বিপণন সংস্থাগুলিকে এমন গ্রাহকদের রিফিল পরিষেবা বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। ফলে এখনও যাঁরা LPG সংযোগে e-KYC সম্পূর্ণ করেননি, তাঁদের জন্য তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে ইন্ডেন, ভারত গ্যাস এবং HP গ্যাস-সহ সমস্ত তেল বিপণন সংস্থাকে এই সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের বায়োমেট্রিক আধার অথেনটিকেশন এখনও হয়নি, তাঁদের পরবর্তী রিফিল বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। e-KYC সম্পূর্ণ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংযোগ ফের সক্রিয় করার সুযোগ থাকবে।
এতদিন e-KYC না করা গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে LPG সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু এবার সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন ছাড়া রিফিলের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ আরও কড়া করা হবে। ফলে e-KYC না করলে ভবিষ্যতে গ্যাস বুকিং করতেই সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রাহকরা।
তবে e-KYC সম্পূর্ণ করলে ফের আগের নিয়মে LPG রিফিল পাওয়ার সুযোগ থাকবে। বায়োমেট্রিক আধার অথেনটিকেশন হয়ে গেলে সংযোগ পুনরায় সক্রিয় করা যাবে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রিত দামে গ্যাস ও সংশ্লিষ্ট ভর্তুকির সুবিধাও মিলবে।
অন্যদিকে, কলকাতায় এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক LPG গ্রাহকের e-KYC বাকি রয়েছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, শহরের প্রায় ২০ শতাংশ গ্রাহক এখনও তাঁদের e-KYC আপডেট করেননি। তাঁদের ক্ষেত্রে আগামী দিনে LPG বুকিং এবং সিলিন্ডারের দাম—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়তে পারে।
নতুন ব্যবস্থায় e-KYC সম্পূর্ণ করা গ্রাহকরা ১৪.২ কেজির ঘরোয়া LPG সিলিন্ডার বর্তমান দরে পাওয়ার সুযোগ পাবেন। কলকাতায় এই সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা। অন্যদিকে, e-KYC না থাকা গ্রাহকদের ক্ষেত্রে বেশি দামে রিফিল নেওয়ার সম্মতি চাওয়ার ব্যবস্থাও চালু হতে পারে। সেই সম্মতি দিলে বাজারভিত্তিক বেশি দামে সিলিন্ডার সরবরাহ করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
বুকিংয়ের সময় গ্রাহকের কাছে এই বিষয়ে সম্মতি চাওয়া হতে পারে। তেল সংস্থাগুলির অ্যাপ, কাস্টমার পোর্টাল, IVRS কিংবা WhatsApp-এর মাধ্যমে সেই অনুমোদন নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। তবে নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, বায়োমেট্রিক অথেনটিকেশন সম্পূর্ণ না করা গ্রাহকদের রিফিল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ব্যবস্থাও কার্যকর হতে পারে।
গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের বক্তব্য, এখনও যাঁদের e-KYC বাকি রয়েছে, তাঁদের আর দেরি না করে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করা উচিত। কারণ নতুন নিয়ম কার্যকর হলে e-KYC না থাকা গ্রাহকদের একদিকে যেমন রিফিল বুকিং বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে পরিষেবা চালু রাখতে বাড়তি দামের সিলিন্ডারের বিকল্পও সামনে আসতে পারে।
তাই LPG গ্রাহকদের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক e-KYC সম্পূর্ণ করা। একবার যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে সংযোগ পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ থাকবে বলেই মন্ত্রকের নির্দেশে জানানো হয়েছে।

Leave a comment