দুর্গাপুজোয় মণ্ডপে ঢোকার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হবে না! হাতে মোহনবাগানের মেম্বারশিপ কার্ড থাকলেই মিলবে ভিআইপি এন্ট্রি। এমনই ব্যবস্থা করেছে কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীন। পুজোর ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন মোহনবাগানের সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে আরও তিনজন মণ্ডপে ঢুকতে পারবেন। ফলে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের কাছে এ বার পুজো দেখার অভিজ্ঞতা হতে চলেছে একটু অন্য রকম।
চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় এ বার প্রয়াত মোহনবাগান রত্ন টুটু বোসকে বিশেষ সম্মান জানানো হবে। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে এ কথা জানিয়েছে পুজো কমিটি। উদ্যোক্তাদের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী থেকে ২১ অক্টোবর দশমী পর্যন্ত মেম্বারশিপ কার্ড দেখিয়ে মণ্ডপে ঢুকতে পারবেন ক্লাবের সদস্যরা। একজন সদস্যের সঙ্গে সর্বাধিক তিন জনের প্রবেশের অনুমতি থাকবে।
মোহনবাগান সমর্থকদের কাছে এই ঘোষণা এসেছে ক্লাবের আরও একটি সাফল্যের পর। বৃহস্পতিবারই আইএফএ শিল্ড জিতেছে সবুজ-মেরুন। তার পর পুজোর মণ্ডপে ভিআইপি প্রবেশের সুযোগ পাওয়ায় সদস্যদের উৎসাহ আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো কলকাতার পরিচিত পুজোগুলির মধ্যে অন্যতম। প্রতি বছরই থিমের টানে এখানে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।
তবে এ বার পুজোর প্রস্তুতি শুরু থেকেই নির্বিঘ্ন ছিল না। খুঁটিপুজোকে কেন্দ্র করে কমিটির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত দু’বার খুঁটিপুজো করতে হয় উদ্যোক্তাদের। পুজো কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদার অভিযোগ, পুরসভার জায়গায় একটি ক্লাব তৈরি হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সমস্যা চলছিল। তাঁর দাবি, বিষয়টি নিয়ে পুরসভা ও পুলিশের তরফে একাধিক বার নোটিস দেওয়া হয়েছিল। পরে নতুন সরকার আসার পর ওই নির্মাণ ভাঙার নোটিস দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
খুঁটিপুজোর নিয়ম মানা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন রাজকুমার। তাঁর বক্তব্য, সাধারণত ঈশান কোণে খুঁটিপুজো করা হয়। প্রথমবার সেই রীতি মানা হয়নি বলে শিল্পীর পরামর্শ নিয়ে ফের খুঁটিপুজোর আয়োজন করা হয়। এ বার মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোয় এই প্রথম কাজ করছেন তিনি।
প্রস্তুতি ঘিরে টানাপোড়েন থাকলেও এখন দর্শকদের নজর মণ্ডপসজ্জার দিকে। তার সঙ্গে মোহনবাগান সদস্যদের জন্য বিশেষ প্রবেশের ব্যবস্থা এ বারের পুজোয় বাড়তি আকর্ষণ হতে চলেছে।

Leave a comment