সিনেমা তৈরির প্রস্তাব দিয়ে আলাপ। তারপর চুক্তি, চেক এবং জরুরি প্রয়োজনে টাকা চাওয়া। এভাবেই বলিউডের এক বাঙালি সুরকার ও প্লেব্যাক গায়কের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। নিজেকে সিনেমার প্রযোজক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। সুরকারের অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে ১৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। পরে অভিযুক্ত কলকাতায় এসেছেন বলে খবর পেলেও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। শেষ পর্যন্ত তালতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই শিল্পী।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের আন্ধেরি ওয়েস্টের একটি স্টুডিয়োয় ওই সুরকারের সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় হয়। মালাডের বাসিন্দা সুরকারকে একটি ছবি তৈরির প্রস্তাব দেন তিনি। ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার কথাও বলেন। সেই প্রস্তাবে রাজি হওয়ার পর চুক্তিপত্রে সই করেন সুরকার। চুক্তির বিনিময়ে ১১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার একটি চেকও দেন অভিযুক্ত বলে অভিযোগ।

পরের দিনই ফের ফোন করেন ওই ব্যক্তি। জানান, তাঁর ইউপিআই কাজ করছে না। জরুরি ভিত্তিতে কিছু টাকা প্রয়োজন। সেই কথা শুনে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন সুরকার। অভিযোগ, তাঁকে ৩০ হাজার টাকা দেন তিনি। এর পর সুরকারের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকার কেনাকাটাও করেন অভিযুক্ত।

সুরকারের দাবি, সব মিলিয়ে ১৩ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা প্রতারণা করা হয়েছে তাঁর সঙ্গে। পরে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি তিনি।

পুজোর আগে অভিযুক্ত কলকাতায় এসেছেন বলে সুরকারকে জানানো হয়েছিল। সেই খবর পেয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে কলকাতায় আসেন ওই শিল্পী। কিন্তু এখানে এসেও অভিযুক্তের দেখা পাননি বলে অভিযোগ। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।

মধ্য কলকাতার তালতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। চুক্তিপত্র, চেক এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটার ঘটনাটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি।

Leave a comment