দুর্গাপুজোয় বিশৃঙ্খলা হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে। সোমবার রাতে এই বার্তাই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বলেছিলেন, প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামানো হবে, এক পা-ও এগোতে দেওয়া হবে না। এর পরের দিন, মঙ্গলবার কলকাতায় কেন্দ্রবিরোধী মিছিল ঘিরে তৈরি হল উত্তেজনা। রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। কিন্তু মিছিল শুরু হওয়ার পর কিছুটা এগোতেই পুলিশ তা আটকে দেয়। পুলিশের বক্তব্য, এই কর্মসূচির জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি।

মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। তবে এ দিন তাঁকে দেখা যায়নি। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা জানান, মিছিল সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য ছিল না। সমাজমাধ্যমে পোস্ট দেখেই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না বলে জানিয়েছেন তিনি। আইন মেনেই পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।

পুলিশের বাধার মুখে পড়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, প্রচুর পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করে মিছিল আটকে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও আন্দোলন সফল হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কুণালের কথায়, দিল্লি ভয় পেয়েছে।

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এর আগেই দিল্লিতে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা। এই ইস্যুতে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।

কলকাতার মিছিলের প্রচারপত্রে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকানো এবং তরুণ প্রজন্মের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গও তাতে তুলে ধরা হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ মানুষকে পথে নামার আহ্বান জানিয়েছে দল। জেলায় জেলায় কর্মসূচির বার্তাও দেওয়া হয়েছে। তবে মঙ্গলবার কলকাতায় মিছিল আর বেশিদূর এগোতে পারেনি।

Leave a comment