ভোজসভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন একদল মানুষ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই গঙ্গায় উল্টে গেল তাঁদের নৌকা। বিহারের বৈশালী জেলার রাঘোপুরে মঙ্গলবারের এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে একাধিক শিশু রয়েছে। নৌকায় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় প্রশাসনের দল। উদ্ধারকাজে নামে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ)। নদীতে কেউ নিখোঁজ রয়েছেন কি না, তা জানতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাঘোপুর দিয়ারা এলাকা থেকে একটি ভোজসভায় যোগ দিতে নৌকায় উঠেছিলেন যাত্রীরা। তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন শিশু ছিল। গঙ্গা পার হওয়ার সময় আচমকাই নৌকাটি উল্টে যায়। জলে পড়ে যান যাত্রীরা। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। তাঁরাই প্রথমে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। নিখোঁজদের খোঁজে নদীতে তল্লাশি শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকারীদের সাহায্য করছেন।
কী কারণে নৌকাটি উল্টে গেল, তা এখনও জানা যায়নি। দুর্ঘটনার সময় নৌকায় ঠিক কতজন ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কতজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন।
নৌকাডুবির ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। মৃতদের পরিবারপিছু চার লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। এক্স হ্যান্ডলে শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, রাঘোপুরে নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণহানি অত্যন্ত দুঃখজনক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি প্রয়াতদের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন তিনি।
বৈশালীর দুর্ঘটনায় শোক জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মৃতদের পরিবারপিছু দু’লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে। দুর্ঘটনায় আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা করে সাহায্যের ঘোষণাও করা হয়েছে।
এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিহারের বৈশালীতে নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণহানির খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন তিনি। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এই ঘটনায় শোকপ্রকাশ করেছেন বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। রাঘোপুর দিয়ারা এলাকায় নৌকাডুবির খবর পেয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর কথায়, দুর্ঘটনায় জলে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিদের অধিকাংশই শিশু। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রশাসন ও আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে উদ্ধারকাজ, ত্রাণ এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বৈশালীতে গঙ্গায় নৌকাডুবির ঘটনায় শোক জানিয়েছেন উপরাষ্ট্রপতি সি পি রাধাকৃষ্ণনও। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি তাঁদের এই কঠিন সময় কাটিয়ে ওঠার শক্তি কামনা করেছেন। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রার্থনা করার পাশাপাশি এখনও যাঁরা নিখোঁজ, তাঁদের নিরাপত্তা কামনা করেছেন উপরাষ্ট্রপতি।
এদিকে, গঙ্গায় উদ্ধারকাজ ও তল্লাশি চলছে। কী কারণে নৌকাটি উল্টে গেল, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য মেলেনি। দুর্ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

Leave a comment