দেউলটি রেলওয়ে স্টেশনের নাম পরিবর্তন করে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নামে করার দাবি উঠেছে। এই দাবিতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং রেলমন্ত্রকের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অখিলভারত হিন্দুমহাসভার পশ্চিমবঙ্গ শাখার তরফে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ডক্টর চন্দ্রচূড় গোস্বামীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল দিল্লিতে গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেয়। মঙ্গলবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছেও নাম পরিবর্তনের দাবিতে চিঠি দেওয়া হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেউলটি রেলওয়ে স্টেশনের নাম বদলে ‘শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রেলওয়ে স্টেশন’ করার আবেদন জানানো হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য, দেউলটির সঙ্গে শরৎচন্দ্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। স্টেশন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে রূপনারায়ণ নদীর তীরে সামতাবেড় এলাকায় রয়েছে সাহিত্যিকের ঐতিহাসিক বাসভবন। জীবনের দীর্ঘ একটি সময় তিনি এই বাড়িতে কাটিয়েছিলেন। ফলে এলাকার সঙ্গে তাঁর স্মৃতি ও সাহিত্যচর্চার সম্পর্ক রয়েছে।
শরৎচন্দ্রের সেই বাড়িটি বর্তমানে সংরক্ষিত। সেখানে সাহিত্যিকের ব্যবহৃত আসবাবপত্র ও বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্ন রাখা হয়েছে। পর্যটক ও সাহিত্যপ্রেমীরা সেই বাড়ি দেখতে যান। দেউলটি স্টেশনই এই ঐতিহাসিক স্থানে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল যোগাযোগস্থল।
প্রস্তাবদাতাদের দাবি, স্টেশনের নাম শরৎচন্দ্রের নামে করা হলে তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোর পাশাপাশি বাংলা সাহিত্যের ঐতিহ্যও তুলে ধরা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সামতাবেড় ও দেউলটিকে কেন্দ্র করে পর্যটনের প্রসার ঘটতে পারে বলেও তাঁদের বক্তব্য।
শরৎচন্দ্রের বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে এই অঞ্চলের সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রস্তাবে। রূপনারায়ণের তীর, সামতাবেড়ের বাড়ি এবং তাঁর সাহিত্যচর্চার স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকাকে আলাদা সাংস্কৃতিক পরিচয় দিয়েছে।
তবে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব এখনও চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। রেলমন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের পরেই এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ জানা যাবে। ফলে দেউলটি স্টেশন ভবিষ্যতে সত্যিই শরৎচন্দ্রের নামে পরিচিত হবে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

Leave a comment