অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ভেদাভেদ করা হচ্ছে না। নন্দীগ্রামের মাটিতে দাঁড়িয়ে এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অগস্টে রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেয়েছেন বলে জানিয়ে তাঁর দাবি, তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ সংখ্যালঘু মহিলা রয়েছেন। উন্নয়নের ক্ষেত্রে ধর্মের ভিত্তিতে কোনও বিভাজন করা হয় না, সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে সেই পরিসংখ্যানই তুলে ধরলেন তিনি।

মঙ্গলবার নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ মনোনয়ন পেশ করেন। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ভোটের ক্ষেত্রে তাঁরা বিজেপির পাশে না থাকলেও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে কাউকে বঞ্চিত করা হচ্ছে না।

অন্নপূর্ণা যোজনার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, অগস্ট মাসে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা পৌঁছেছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২০ লক্ষ সংখ্যালঘু মহিলা রয়েছেন। সেপ্টেম্বরের টাকাও ১৬ তারিখে ঢোকার কথা বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে আবাস যোজনার পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, প্রায় ৫৪ লক্ষ পরিবারের আবাসের জন্য নাম উঠেছে। এর মধ্যে প্রায় ১৩-১৪ লক্ষ সংখ্যালঘু পরিবারের নাম রয়েছে।

শুভেন্দুর বক্তব্য, উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমরা মোদীজির সৈনিক। উন্নয়নে ভেদাভেদ করি না।” সংখ্যালঘুদের ভোট না পাওয়ার অভিযোগ থাকলেও সরকারি পরিষেবা ও প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে সেই বিষয়টি প্রভাব ফেলছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

নন্দীগ্রামে প্রায় ২৭ শতাংশ এবং রেজিনগরে প্রায় ৭০ শতাংশ সংখ্যালঘু ভোটার রয়েছেন বলে উল্লেখ করে তাঁদের বিজেপির সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান শুভেন্দু। ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করতে চাইলে এটাই তাঁদের সুযোগ।

এরপরই সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে কার্যত চ্যালেঞ্জের সুরে শুভেন্দু বলেন, ৬ অক্টোবর তাঁদের ‘পরীক্ষা’। সেই পরীক্ষায় তাঁরা পাশ করবেন না ফেল করবেন, তা তাঁদের সিদ্ধান্তের উপরেই নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে নন্দীগ্রামে বিজেপির জয় নিয়ে নিজের আত্মবিশ্বাসও স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু—“বাকি আমরা তো জিতছি, জিতব।”

Leave a comment