বীরভূমের পাথরশিল্পে পুজোর মুখে বাড়ল প্রশাসনিক তৎপরতা। বৈধ নথিপত্র এবং প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠা ক্রাশারগুলিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাগজপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশের পর জেলার একাধিক পাথরশিল্প এলাকায় এই নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচামি ও তালবাঁধ এলাকার মোট ২২৯টি ক্রাশারকে আগে বৈধ নথি ও পরিবেশগত অনুমোদন দেখাতে বলা হয়েছিল। তার মধ্যে মাত্র ৩৬টি ক্রাশার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পেরেছে বলে প্রশাসনের দাবি। ফলে বাকি ১৯৩টি ক্রাশারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সময়সীমা ছিল। এবার ফের নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবরের মধ্যে বৈধ কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় পরিবেশগত ছাড়পত্র জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি না দেখাতে পারলে প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারে সংশ্লিষ্ট ক্রাশারগুলি।
পাঁচামি ও তালবাঁধের পাশাপাশি রামপুরহাট, শালবাদরা, নলহাটি, মুরারই-সহ জেলার বিভিন্ন পাথরশিল্প এলাকাতেও নোটিশ পৌঁছেছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি ক্রাশার মালিককে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে বলা হয়েছে।
বীরভূমের পাথর খাদান ও ক্রাশার শিল্পকে ঘিরে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অবৈধ পাথর উত্তোলন থেকে শুরু করে অনুমোদন ছাড়া ক্রাশার চালানোর অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। প্রশাসনের তরফে অতীতে নোটিশ ও জরিমানা করা হলেও এই শিল্পকে ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।
ক্রাশার মালিক সমিতির সৈয়দ ফৈজল হক জানিয়েছেন, পাঁচামি ও তালবাঁধের ২২৯টি ক্রাশারকে আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট ক্রাশার মালিকদের জরিমানাও দিতে হয়েছিল বলে তাঁর দাবি।
এখন ৮ অক্টোবরের সময়সীমার দিকে নজর সংশ্লিষ্ট মহলের। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতগুলি ক্রাশার বৈধ নথি দেখাতে পারে এবং এরপর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তা স্পষ্ট হবে। পুজোর আগে তাই বীরভূমের পাথরশিল্পে নথি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Leave a comment