চার বছরের শিশুর অস্ত্রোপচারের পর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত সাইদুল হককে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পরই দেশ ছেড়ে দুবাই চলে গিয়েছিলেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করা হয়। সেই নোটিসের ভিত্তিতেই দুবাই থেকে দিল্লি ফেরার সময় তাঁকে বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে।

ঘটনাটি বর্ধমানের নবাবহাট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের। সেখানে চার বছরের এক শিশুর অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই অস্ত্রোপচারে যুক্ত ছিলেন সাইদুল। অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির মৃত্যু হয়। এরপর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে বর্ধমান থানার পুলিশ।

তদন্তে সাইদুলের চিকিৎসক হিসেবে যোগ্যতা এবং তাঁর নথিপত্র নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর ভূমিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগও তদন্তকারীরা যাচাই করছেন।

এর মধ্যেই সাইদুল দেশ ছেড়ে দুবাই চলে যান বলে অভিযোগ। তাঁর সন্ধান না মেলায় পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিস জারি করে। এরপর দেশের কোনও বিমানবন্দর দিয়ে তিনি ফিরলে তাঁকে আটক করার সুযোগ তৈরি হয়।

দুবাই থেকে দিল্লি ফেরার পর শেষ পর্যন্ত সেই নোটিসের ভিত্তিতেই তাঁকে আটক করা হয়। বিমানবন্দরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে বর্ধমান থানার পুলিশ তাঁকে নিয়ে আসছে। বুধবার তাঁকে বর্ধমানে আনা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

সাইদুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে শিশুটির অস্ত্রোপচার এবং মৃত্যুর বিষয়ে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করবেন তদন্তকারীরা। অস্ত্রোপচারের সময় কী হয়েছিল, কারা চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সাইদুলের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও নথি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি হাসপাতালের চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। সাইদুলকে বর্ধমানে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই মামলার তদন্তে আরও কিছু তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

Leave a comment