মহালয়ার ভোরে আগুনে পুড়ে গেল হাওড়ার চ্যাটার্জিহাটের নতুন রাস্তা এলাকার একটি তিনতলা বাড়ি। আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে আশপাশের চারটি দোকানও। শনিবার সকালে এই ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বাড়ি থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করা হলেও, শেখ নাজির হোসেন নামে এক প্রৌঢ় আহত হয়েছেন। তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িটির নিচের তলায় ছিল রাবারের গোডাউন। সেখানে একটি রাবারের কারখানাও চলত। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, সেখান থেকেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রাবারের মতো দাহ্য সামগ্রী মজুত থাকায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির অন্যান্য অংশে। তবে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।

আগুন দেখতে পেয়েই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারের কাজে হাত লাগান। কয়েকজন যুবক আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে প্রথমে তিনটি ইঞ্জিন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন দমকলকর্মীরা। পরে আরও একটি ইঞ্জিন আনা হয়। দমকলের কর্মীরা আগুন নেভানোর পাশাপাশি বাড়ির ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে বাড়ি ও দোকানগুলির ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে থেকে শেখ নাজির হোসেনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বাড়ির অন্য বাসিন্দাদেরও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দেবব্রত চৌধুরী জানান, ভোরবেলা আচমকাই বাড়িটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন তাঁরা। বাড়ির বাসিন্দারা অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

দমকল সূত্রে খবর, ওই কারখানায় পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। এই অভিযোগে কারখানাটির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছিল কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Leave a comment