গ্রামের নাম কালাঝারিয়া। ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়ার এই লোধা-শবর অধ্যুষিত গ্রামেই শুক্রবার সরকারি কর্মসূচির সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য বাজেটে জনজাতি পরিবারগুলির জন্য পুষ্টিকর খাবারের কিট দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। এ দিন সেই প্রকল্প চালু হল।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতি সপ্তাহে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হবে খাবারের প্যাকেট। তাতে থাকবে চাল, ডাল, তেল ও সয়াবিন। রেশনের বাইরে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে এই কিট দেওয়া হবে। পশ্চিম মেদিনীপুরের ৪৫ হাজার এবং ঝাড়গ্রামের ২৫ হাজার পরিবার এতে উপকৃত হবে বলে দাবি তাঁর। কালাঝারিয়ায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, এই প্রথম কোনও মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে গ্রামে এলেন।
ঝাড়গ্রামের উন্নয়নের জন্য ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য। আগামী ছ’মাসের মধ্যে জেলার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসককে। পাশাপাশি, জেলার ২ লক্ষ পড়ুয়াকে ৮০০ টাকা করে এসটি বৃত্তি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন রাজনৈতিক আক্রমণও শোনা গিয়েছে তাঁর বক্তব্যে। আগের সরকারকে নিশানা করে শুভেন্দুর অভিযোগ, কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পে তারা যোগ দেয়নি। পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে আগের মুখ্যমন্ত্রীর কাজ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, “এই সরকার পশ্চিমাঞ্চলকে বঞ্চিত করবে না। পশ্চিমাঞ্চলের দায়িত্বও আমার হাতেই।”
আদিবাসী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা চালুর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর ঘোষণা, ১২৫ দিনের কাজের গ্যারান্টি দেওয়া হবে। যাঁদের নতুন করে জবকার্ড প্রয়োজন, তাঁরা আবেদন করতে পারবেন। ঝাড়গ্রাম জেলায় ২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯০৩ জন অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি। আগামী ১২ নভেম্বর বাঁকুড়ায় বাদনা পরবে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন শুভেন্দু।

Leave a comment