চটকল শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের আবাসন সমস্যার কথা মাথায় রেখে সস্তায় পাকা বাড়ি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল শ্রেণির চটকল শ্রমিকদের জন্য পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পে যোগ্য সুবিধাভোগীকে দিতে হবে মাত্র ৫০ হাজার টাকা।

প্রাথমিকভাবে উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলায় প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক ভাবে চালু হবে। শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, বহু চটকল শ্রমিক এখনও পুরনো ও জরাজীর্ণ শ্রমিক কোয়ার্টারে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। কোথাও কোথাও একাধিক পরিবারকে একই শৌচাগার ব্যবহার করতে হয়। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন করতেই নিরাপদ ও সাশ্রয়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি ফ্ল্যাট তৈরিতে প্রায় ৫.৫০ লক্ষ টাকা খরচ হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ১.৫০ লক্ষ টাকা এবং রাজ্য সরকারের তরফে ২.৭৯ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। 

সুবিধাভোগীর অংশ ৫০ হাজার টাকা। অবশিষ্ট প্রায় ৭১ হাজার টাকা শ্রম দফতর বহন করবে।

প্রস্তাবিত ফ্ল্যাটের কার্পেট এরিয়া প্রায় ৩২০ থেকে ৪৫০ বর্গফুট। প্রতিটি ফ্ল্যাটে থাকবে দু’টি ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি শৌচাগার। জি+৩ অর্থাৎ চারতলা ভবনে প্রতি তলায় চারটি করে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। পরিবারের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার বেশি হলে আবেদন করা যাবে না। আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্যের নামে অন্যত্র পাকা বাড়ি থাকলে এই সুবিধা মিলবে না। গত ২০ বছরে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও আবাসন প্রকল্পের সুবিধা নিলেও আবেদন করা যাবে না।

উত্তর ২৪ পরগনায় ভাটপাড়া, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভাকে জমি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। প্রশাসন, শ্রম দফতর, পুরসভা, ট্রেড ইউনিয়ন এবং চটকল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে যোগ্য শ্রমিকদের তালিকা তৈরি করা হবে।

প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী পরিবারের ক্ষেত্রে নিচতলা বা নিচের তলায় ফ্ল্যাট দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্দিষ্ট ফর্ম ও ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ফ্ল্যাট পাওয়ার পর প্রথম পাঁচ বছর তা বিক্রি বা অন্যের নামে হস্তান্তর করা যাবে না।

Leave a comment