মালদহের ভূতনিতে গঙ্গার জলস্তর কমতে শুরু করলেও বন্যার দুর্ভোগ এখনও কাটেনি। বহু এলাকা জলমগ্ন থাকায় খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহ করতে এখনও জলের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। শুক্রবার বানভাসি ভূতনির এমনই ছবি সামনে এসেছে, যা পরিস্থিতির কঠিন বাস্তবতা তুলে ধরেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিবারের কাছে নৌকা না থাকায় খিদের জ্বালায় কাঁদছিল এক শিশু। তার জন্য ত্রাণের খাবার জোগাড় করতে বছর দশেকের এক কিশোরী টিনের ডোঙায় চেপে প্রায় তিন ঘণ্টা গঙ্গার জলে ভেসে বেড়ায়। খাবারের আশায় সরকারি কর্তাদের খুঁজে ফিরতে হয়েছে তাকে। জলবন্দি এলাকার শিশুদেরও যে পরিস্থিতির কারণে এমন ঝুঁকি নিতে হচ্ছে, সেই ছবিই উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ভূতনির বিভিন্ন এলাকায় এখনও বুক সমান জল রয়েছে। ত্রাণের নৌকা পৌঁছলে খাবার সংগ্রহ করতে অনেক বাসিন্দাকে জলে নেমে পড়তে হচ্ছে। নৌকা থেকে ছুড়ে দেওয়া খাবার নিতে গিয়ে কোথাও কোথাও হুড়োহুড়ির পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। প্রত্যন্ত কিছু এলাকায় এখনও ত্রাণ পৌঁছনোর অপেক্ষায় রয়েছেন বাসিন্দারা।
পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে শুক্রবার মালদহ জেলা বিজেপির একটি প্রতিনিধি দল ভূতনির বিভিন্ন বানভাসি এলাকা পরিদর্শন করে। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে ত্রাণ ও খাবার সরবরাহের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হয়। যদিও প্রশাসনের দাবি, মানিকচক ব্লকের তরফে নৌকায় করে পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠানো হচ্ছে। আগের বন্যার তুলনায় এবার বেশি ত্রাণ বিলি করা হয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, ২২টি ত্রাণশিবিরে সাত হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। চলতি মরশুমে গঙ্গার জলস্তর সর্বোচ্চ ২৬.০৭ মিটারে পৌঁছেছিল। শুক্রবার সকালে তা কমে ২৫.৫১ মিটারে দাঁড়িয়েছে। তবে এখনও বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপরে রয়েছে জল।
জল নামতে শুরু করায় কিছু এলাকায় চর জেগে উঠছে এবং বাড়িঘর থেকেও জল নামছে। নতুন করে ভারী বৃষ্টি না হলে পরিস্থিতি আরও স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রশাসনের। তবে জল নামার পর জলবাহিত রোগ ও নদীভাঙনের আশঙ্কা থাকায় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

Leave a comment