রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে একের পর এক ঘটনা। প্রার্থী নিয়ে টানাপোড়েন থেকে ভোটের দিন গ্রেপ্তার, তার পর রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা—পর্ব শেষ হওয়ার আগেই এ বার গণনাকেন্দ্র ঘিরে কড়া পদক্ষেপ প্রশাসনের। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর বহরমপুর গার্লস কলেজে রেজিনগরের ভোট গণনা। তার আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। মহকুমা শাসক (সদর) সমীরণ বরিক জানিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ৭০-রেজিনগর কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে বহরমপুর গার্লস কলেজে। গণনাকেন্দ্রের বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে পারে বলে পুলিশের রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সেই কারণেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে।

প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, গণনাকেন্দ্রের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনও যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হবে না। একই এলাকায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতও নিষিদ্ধ। বাজানো যাবে না লাউডস্পিকারও। বৈধ পরিচয়পত্র ছাড়া কাউকে গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

এ ছাড়া গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে অস্ত্র, মোবাইল ফোন, কর্ডলেস ফোন বা ওয়্যারলেস সেট নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। তবে গণনার কাজে নিযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশকর্মী, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, জেলাশাসক, এডিএম, আরও এবং গণনাকর্মীরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না।

রেজিনগর উপনির্বাচনের নেপথ্যেও রয়েছে একাধিক রাজনৈতিক টানাপোড়েন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর নওদা এবং রেজিনগর—দুই কেন্দ্রেই জয় পান। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেন তিনি। সেই কারণেই রেজিনগরে উপনির্বাচন হচ্ছে।

নিজের ছেলে গোলাম আজাদ নবীকে রেজিনগরে প্রার্থী করেন হুমায়ুন। বিজেপির প্রার্থী হন শাখারভ সরকার। ভোটের আগে থেকেই কর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন হুমায়ুন। ভোটের দিনও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ করেন তিনি। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তার পরের দিনই রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেই ঘটনার পর এ বার ভোট গণনার দিনও বাড়তি সতর্কতা নিল প্রশাসন।

Leave a comment