খনির প্রায় ২০০ ফুট নিচে ডুলিতে আটকে পড়েছিলেন ১২ জন শ্রমিক। সোমবার বিকেলে পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি এ কোলিয়ারিতে এই ঘটনা ঘটে। প্রথমে খনি কর্তৃপক্ষ তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি। এরপর রাতভর চলে উদ্ধারকাজ। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ ১২ জনকেই বাইরে বের করে আনা হয়। তাঁরা প্রত্যেকেই সুস্থ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
খনি সূত্রে খবর, সোমবার বিকেলে কোলিয়ারিতে কাজ করার সময় ডুলিতে আটকে পড়েন শ্রমিকরা। তাঁদের উদ্ধারে প্রথমে উদ্যোগী হন খনি কর্তৃপক্ষের কর্মীরা। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ে। পরে পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর এবং খনি কর্তৃপক্ষের কর্মীরা উদ্ধারকাজে হাত লাগান।
খনির গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে ওয়াকিটকির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখা হচ্ছিল। তাঁদের কাছে পাঠানো হয় জল ও শুকনো খাবার। দীর্ঘক্ষণ খনির ভিতরে আটকে থাকায় যাতে তাঁদের শারীরিক সমস্যা না হয়, সে দিকেও নজর রাখা হয়। পাশাপাশি, তাঁদের নিরাপদে উপরে তুলে আনার চেষ্টা চলতে থাকে।
ঘটনার খবর পেয়ে কুমারডিহি কোলিয়ারিতে পৌঁছন দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক অঙ্কিতা আগরওয়াল এবং আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ডা. প্রণব কুমার। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাণ্ডবেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারিও। উদ্ধারকাজের দিকে নজর রাখেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও গোটা অভিযানের উপর নজরদারির নির্দেশ দেন বলে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে ১২ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তাঁদের সুস্থ থাকার খবর মিলতেই স্বস্তি ফেরে এলাকায়। তবে এই ঘটনার পর খনির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
জিতেন্দ্র তিওয়ারি বলেন, ‘‘শুধু খনি কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা নয়, জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে খনি শ্রমিকদের প্রচেষ্টায় উদ্ধার হন আটকে থাকা শ্রমিকরা। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে দিকে বাড়তি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানানো হয়েছে।’’
কী কারণে ডুলিতে আটকে পড়েছিলেন শ্রমিকরা, তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেজন্য খনির নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে।

Leave a comment