পুজোর রাতে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে মহিলাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে বিশেষ ব্যবস্থা করল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। ষষ্ঠীর দিন, শুক্রবার চালু হল ‘দুর্গা বাহিনী’। পাশাপাশি, ছোট শিশুদের নিয়ে পুজো দেখতে আসা অভিভাবকদের সুবিধার জন্য মণ্ডপের সামনে তৈরি করা হয়েছে ‘জুনিয়র কর্নার’। শহরের বিভিন্ন মোড়ে খোলা হয়েছে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্রও।

পুজোর দিনগুলিতে সন্ধ্যা নামলেই মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় বাড়তে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রাস্তায় মানুষের চাপও বাড়ে। এই সময় মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের তরফে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্গা বাহিনীর গাড়ি রাতভর শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দেবে। কোথাও কোনও সমস্যায় পড়লে যাতে দ্রুত পুলিশের সাহায্য পাওয়া যায়, সেই ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা জানান, রাজ্যজুড়েই দুর্গা বাহিনী চালু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আগেই এই উদ্যোগ শুরু করেছিলেন। এ বার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশও সেই ব্যবস্থা চালু করল। মহিলারা যাতে সারা রাত নিশ্চিন্তে প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘুরতে পারেন, সে জন্য পুলিশের গাড়ি টহল দেবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন পুলিশকর্মীরাও।

শুধু মহিলাদের নিরাপত্তাই নয়, ছোট শিশুদের সুবিধার দিকেও নজর দিয়েছে জেলা পুলিশ। সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে অনেক সময় সমস্যায় পড়েন অভিভাবকেরা। ভিড়ের মধ্যে শিশুকে দুধ খাওয়ানো কিংবা কিছুক্ষণ বিশ্রাম দেওয়ার জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। সেই অসুবিধা দূর করতেই মণ্ডপের সামনে তৈরি করা হয়েছে ‘জুনিয়র কর্নার’। সেখানে শিশুদের দুধ খাওয়ানো ও বিশ্রাম নেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে।

অন্যদিকে, মেদিনীপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে খোলা হয়েছে পুলিশ সহায়তা কেন্দ্র। পুজো দেখতে গিয়ে কোনও সমস্যা হলে বা জরুরি প্রয়োজনে এই কেন্দ্রগুলি থেকে পুলিশের সাহায্য নিতে পারবেন সাধারণ মানুষ।

ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, মেদিনীপুরের সাংসদ জুন মালিয়া এবং জেলা পুলিশের আধিকারিকরা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে নিরাপত্তার ব্যবস্থা খতিয়ে দেখেন। পুজোর ভিড় সামলানোর পাশাপাশি মহিলাদের সুরক্ষা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ।

Leave a comment