হাওড়া থেকে দিল্লি যাওয়ার বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন থামবে আসানসোল ও ধানবাদে। গ্র্যান্ড কর্ড রুটে এই ট্রেন চালানোর পরিকল্পনায় দুই স্টেশনকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এই রুটে বন্দে ভারত স্লিপার চালানোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা। রেলের এই সিদ্ধান্তে খুশি আসানসোল ও ধানবাদ এলাকার মানুষ।

সম্প্রতি মুম্বইয়ে তিন দিন ধরে চলা চিফ কন্ট্রোলারদের টাইম টেবিল কনফারেন্সে হাওড়া-নয়া দিল্লি বন্দে ভারত স্লিপার চালানোর প্রস্তাবে মঞ্জুরি মিলেছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হাওড়া থেকে ছাড়ার পর ট্রেনটি আসানসোল ও ধানবাদ স্টেশনে থামবে। তবে কবে থেকে ট্রেনটি চালু হবে, তা এখনও জানা যায়নি। রেলের চূড়ান্ত সময়সূচি প্রকাশিত হলেই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মিলবে।

আসানসোল ও ধানবাদ, দু’টিই গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। এই দুই এলাকা থেকে ব্যবসার কাজে এবং চাকরির প্রয়োজনে বহু মানুষকে দিল্লি যেতে হয়। ফলে এই রুটে উন্নত রেল পরিষেবার দাবি দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন বাণিজ্যিক সংগঠন ও রেলযাত্রীদের কমিটির তরফেও বারবার বিষয়টি রেলের নজরে আনা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আসানসোল চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক শম্ভু ঝা এবং রানিগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্সের কর্মকর্তা রোহিত খইতান। তাঁদের কথায়, দীর্ঘদিন ধরেই এই ট্রেন চালানোর দাবি জানানো হচ্ছিল। সেই দাবিতে সাড়া মেলায় তাঁরা খুশি। ট্রেনটি চালু হলে সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও সুবিধা হবে বলে তাঁদের আশা।

বর্তমানে হাওড়া ও শিয়ালদহ থেকে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেসের মতো দ্রুতগামী ট্রেন চলে। রয়েছে শিয়ালদহ-বিকানির দুরন্ত এক্সপ্রেসও। বন্দে ভারত স্লিপার চালু হলে দিল্লি যাওয়ার জন্য যাত্রীদের হাতে আরও একটি বিকল্প থাকবে। বিশেষ করে আসানসোল ও ধানবাদ থেকে যাঁরা নিয়মিত দিল্লি যাতায়াত করেন, তাঁদের সুবিধা হতে পারে। তবে ট্রেনটির ভাড়া ও যাত্রার সময় সম্পর্কে এখনও কোনও চূড়ান্ত তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে, হাওড়া থেকে আনন্দ বিহারগামী সাপ্তাহিক ট্রেনটির যাত্রার সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও ওই বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সপ্তাহে এক দিনের পরিবর্তে ট্রেনটি দুই থেকে তিন দিন চালানোর প্রস্তাবে সহমত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা বলে জানা গিয়েছে। নতুন সময়সূচিতে এই পরিবর্তনের ঘোষণা হতে পারে।

বন্দে ভারত স্লিপার চালু এবং হাওড়া-আনন্দ বিহার ট্রেনের যাত্রার সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে এখন রেলের চূড়ান্ত ঘোষণার অপেক্ষা।

Leave a comment