পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর একমাসও নেই। এর মধ্যেই বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আশঙ্কা। আবহাওয়াবিদ ড. সুজীব করের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের ২৪ তারিখ নাগাদ বঙ্গোপসাগরে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার উপকূলবর্তী এলাকায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ এখনও স্পষ্ট নয়। কোথায় ল্যান্ডফল করবে, তা নিশ্চিতভাবে বলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলা কিংবা ওড়িশার উপকূলেই ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন ওই আবহাওয়াবিদ। যদিও পরবর্তীতে গতিপথ অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে সরে গেলে বাংলায় এর প্রভাব কমতে পারে।

তবে এই সাইক্লোন তৈরি হলে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টির পাশাপাশি অক্টোবরের আবহাওয়াতেও তার প্রভাব থাকতে পারে। ড. সুজীব করের ব্যাখ্যা, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে আটকে থাকা বর্ষা ফের সক্রিয় হতে পারে। ফলে অক্টোবরেও বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। আর সেই প্রভাবেই দুর্গাপুজোর দিনগুলিতে বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

অর্থাৎ সেপ্টেম্বরের ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পুজোর সময়েও টিকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে। পুজোর কয়েকদিনে কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি, আবার কোনও কোনও সময়ে ভারী বৃষ্টির পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। তবে এখনই পুজোর নির্দিষ্ট দিনগুলির আবহাওয়া সম্পর্কে নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়।

ড. সুজীব করের মতে, সামগ্রিক জলবায়ু পরিস্থিতিতেও পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সুপার এল নিনোর প্রভাবে দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত গরম, ঘূর্ণিঝড়জনিত বৃষ্টি এবং স্বল্পস্থায়ী শীতের প্রবণতা দেখা যেতে পারে। সেই পরিবর্তনের প্রভাব শরৎকালেও পড়তে পারে বলে তাঁর মত।

তাঁর আরও দাবি, দক্ষিণবঙ্গে একদিকে দীর্ঘ সময় বৃষ্টির ঘাটতি তৈরি হতে পারে, আবার অন্যদিকে অল্প সময়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির জেরে জলমগ্নতার পরিস্থিতিও দেখা দিতে পারে। ফলে সেপ্টেম্বরের সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় শুধু চলতি মাসের আবহাওয়াতেই নয়, পুজোর সময়ের পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে কি না, এখন নজর সেদিকেই।

Leave a comment