পুজোর আবহ শুরুর আগেই বদলে যেতে চলেছে রাজ্যের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ঠিকানা। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিন থেকেই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বসে কাজ শুরু করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অর্থাৎ নবান্ন থেকে প্রশাসনিক কাজ চালানোর বদলে ফের মহাকরণমুখী হতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর। ২০২৬ সালের মহালয়া পড়েছে ১০ অক্টোবর।

সূত্রের খবর, রাইটার্স বিল্ডিংয়ের সংস্কারের কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে এখন সময়সীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ত দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে দ্রুততার সঙ্গে বাকি কাজ মিটিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয়ের প্রয়োজনীয় কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকের জন্য নির্ধারিত জায়গাতেও কাজ এগোচ্ছে।

শুধু মুখ্যমন্ত্রীর দফতরই নয়, আরও ৫ মন্ত্রীর ঘরও একই সময়সীমার মধ্যে প্রস্তুত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে যে মন্ত্রীদের রাইটার্সে বসার কথা জানা যাচ্ছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, শংকর ঘোষ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং পূর্তমন্ত্রী অজয় পোদ্দার। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্যের প্রশাসনিক কাজের কেন্দ্রও বদলাতে পারে।

রাইটার্স বিল্ডিংয়ে প্রশাসনিক পরিকাঠামো ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে প্রশাসনিক দফতর নবান্নে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ঐতিহাসিক ভবনটির সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কারণেই সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কারের কাজ চললেও তা সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

এবার রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর রাইটার্সকেই ফের প্রশাসনের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা জানিয়েছিল বিজেপি। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সংস্কারের কাজই এতদিন বড় বাধা ছিল। এখন সেই কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে গিয়ে মহালয়ার সময় থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর দফতর রাইটার্সে চালুর প্রস্তুতি চলছে।

অর্থাৎ পুজোর আগেই প্রশাসনিক ছবিতে বড় বদল—নবান্নে নয়, মহালয়া থেকেই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে বসে রাজ্য পরিচালনার কাজ শুরু করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Leave a comment