পুজোর আগে ফের শহরের একাধিক রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে অভিযান কলকাতা পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয়েছে মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে রাখা কাবাব, তন্দুরি-সহ একাধিক খাদ্যসামগ্রী। জনপ্রিয় মিষ্টির দোকান গাঙ্গুরামের নিমকির প্যাকেট থেকেও মিলেছে পালক। অন্যদিকে, গোলপার্কের একটি রেস্তোরাঁয় ফ্রিজে জমিয়ে রাখা কাবাব ও মোমো এবং দুধের প্যাকেটের মধ্যে মরা আরশোলা উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই শহর ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে খাদ্যের মান নিয়ে অভিযান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দফতর। এর আগে একাধিক দোকান ও রেস্তোরাঁ থেকে পচা খাবার, মেয়াদহীন খাদ্যসামগ্রী এবং খাবারের অনুপযোগী রংয়ের প্যাকেট উদ্ধার হয়েছিল। কলকাতায় নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ৪০টি দোকানের লাইসেন্স বাতিলের তালিকাও প্রকাশ করেছিল পুরনিগম। তার পরেই বৃহস্পতিবার ফের একাধিক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়।

গোলপার্কের একটি রেস্তোরাঁয় তল্লাশি চালাতে গিয়ে ফ্রিজের মধ্যে জমিয়ে রাখা কাবাব ও মোমো দেখতে পান খাদ্য সুরক্ষা আধিকারিকরা। খাবারগুলি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেগুলি পরে ফেলে দেওয়া হয়। একই জায়গায় দুধের একটি প্যাকেটের ভিতর মরা আরশোলা পাওয়া যায়। সেটিও নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, শহরের পরিচিত মিষ্টির দোকান গাঙ্গুরামেও তল্লাশি চালান আধিকারিকরা। সেখানে নিমকির প্যাকেট খুলতেই তার মধ্যে পালক পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দোকানের এক কর্তা জানান, ভুলবশত সেটি প্যাকেটে চলে এসেছে। অর্থাৎ খাবারে এমন অস্বাভাবিক বস্তু থাকার বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নেয় দোকান কর্তৃপক্ষ।

এদিন আরও একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে চিংড়ি, মাছ ও চাউমিন-সহ বেশ কিছু খাবার ফেলে দেওয়া হয়। ওই সমস্ত খাদ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে মেয়াদ বা ব্যবহারের শেষ তারিখের উল্লেখ ছিল না বলে অভিযোগ। খাদ্য সুরক্ষার নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই ধারাবাহিক এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

পুজোর মরশুমে কলকাতার বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে ভিড় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে খাবারের গুণমান এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে পুরসভার এই অভিযান ফের একবার শহরের খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

Leave a comment